নবীগঞ্জের ১৫ হাওরে আমন-আউশের বাম্পার ফলন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:১৮:৩৭ অপরাহ্ন

শাহ সুলতান আহমদ, নবীগঞ্জ: অগ্রহায়ণ মাস শুরু হওয়ার আগেই হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় ১৫টি হাওর এখন সোনালি ধানে ভরপুর। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে বিস্তৃত এসব হাওরে এবার আমন ও আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের মাঠ দেখে আনন্দিত কৃষকেরা। তবে ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে রয়েছে কিছুটা হতাশা।
উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাওরগুলোর মধ্যে রয়েছে জোয়ালভাঙ্গা হাওর, রাজের বন, পিঠুয়া হাওর, মকার হাওর, আকুয়া হাওর, পানিউমদা হাওর, শেওলা হাওর ও বাট্টা বিল হাওরসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট-বড় হাওর। এসব হাওরে এখন চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যস্ততা।
বুধবার কয়েকটি হাওর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা দলবেঁধে ধান কাটছেন। কেউ কাস্তে দিয়ে ধান কাটছেন, কেউ ধানের আঁটি বাঁধছেন, আবার কেউ কাঁধে কিংবা ঠেলাগাড়িতে করে ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। পাকা ধানের মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে হাওরের চারপাশ।
জোয়ালভাঙ্গা হাওরের দেওতৈল গ্রামের কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, এ বছর তিনি ৮ কেদার জমিতে আমন এবং ৫ কেদার জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি বেশ আশাবাদী। রঘু দাউদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল সালাম বলেন, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম অনেক কম।
রাজের বন হাওরের কৃষক আব্দুল কাবিরও ভালো ফলনের কথা জানিয়েছেন। পিঠুয়া হাওরের কৃষক নবাব উল্লাহ বলেন, ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা কিছুটা হতাশ। দীঘলবাক ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের কৃষক শ্রী লক্ষণ পাল জানান, জোয়ালভাঙ্গা হাওরে এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কুর্শি ইউনিয়নের কুর্শি গ্রামের কৃষক জরিফ উল্লাহ বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়া, সার ও বীজের সংকট না থাকা এবং পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এবার ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৭ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরফিন হাসান জানান, চলতি মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে আমন এবং ৯৩৮ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। আবাদি জমির পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার নবীগঞ্জ উপজেলায় ধানের রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে হাওরজুড়ে বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘরে ঘরে এখন স্বস্তি ও আনন্দের আবহ। তবে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।






