প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক ধানের জাত ও উৎপাদন সময়োপযোগী পদক্ষেপ : কৃষক সমাবেশে বিভাগীয় কমিশনার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৯:১৭ অপরাহ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষির আধুনিকায়নে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, গাছ কার্বন শোষণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে আধুনিক ধানের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি সরাসরি কৃষকের মাঠে প্রদর্শন এবং স্থানীয় উপযোগিতা যাচাইয়ের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কৃষির আধুনিকায়নে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন সিলেটের উদ্যোগে ‘নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের পাইকরাজ প্রযুক্তি গ্রামে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির জনপ্রিয়করণ, কৃষক পর্যায়ে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রযুক্তি গ্রামের গবেষণা, প্রদর্শনী ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং প্রকল্পের সায়েন্টিফিক অফিসার হুর-ই-ফেরদৌসী তাজিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়ার্কশপ, মেশিনারি অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আফজাল হোসাইন এবং সিলেট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. শামসুজ্জামান বলেন, উদ্ভাবিত ধানের জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে কৃষকরা একই স্থানে উন্নত ধানের জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় মাটি, পানি, জলবায়ু ও কৃষকের চাহিদা বিবেচনায় উপযোগী ধানের জাত এবং উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও জনপ্রিয় করাই এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অতিথিরা এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা পাইকরাজ প্রযুক্তি গ্রামের গবেষণা প্লট ও রোপা আমন মৌসুমে ৫২টি ধানের জাত নিয়ে স্থাপিত ‘ব্রি রাইস গার্ডেন’ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা সুষম সার ব্যবস্থাপনা, বায়ো-কোটেড ইউরিয়া, ন্যানো ইউরিয়া, লাইট ট্র্যাপ, ব্রি নিড়ানি যন্ত্র এবং পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি গবেষকদের সঙ্গে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিজ্ঞপ্তি






