মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১৪৬ অভিবাসী আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুলাই ২০২৬, ৯:২২:২৩ অপরাহ্ন

কুয়ালালামপুর প্রতিনিধি: অবৈধ অভিবাসন, অননুমোদিত কর্মসংস্থান ও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। পৃথক তিনটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১৪৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা ও নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবচেয়ে বড় অভিযানটি পরিচালিত হয় সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ের প্লাজা জিএম পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্রে। ‘অপস মেগা’ অভিযানে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৩২৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার ৮৬ জন বিদেশিকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ ও ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও ড্রোন নজরদারি ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ১১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও সমন জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কেলান্তান সীমান্তে পৃথক অভিযানে বাংলাদেশের আটজনসহ মোট ১৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক কয়েকজন আগে থেকেই কালোতালিকাভুক্ত ছিলেন এবং অননুমোদিত সীমান্তপথ ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার আটটি পাসপোর্ট এবং একটি প্রোটন প্রেভে গাড়ি জব্দ করা হয়।
এছাড়া পাহাংয়ের ক্যামেরন হাইল্যান্ডসের একটি নির্মাণ প্রকল্পে অভিযান চালিয়ে আরও ৪৭ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অবৈধ কর্মসংস্থান দমনে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এবং তাদের নিয়োগদাতা ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অননুমোদিত বিদেশি কর্মসংস্থান দমনে দেশব্যাপী সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।






