নগরীর রায়নগরে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬:৫১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী এবং এক তরুণীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত আব্দুস সাত্তার (৯০) ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বী হিসেবে পরিচিত। তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম মালু বেগমের বয়স আনুমানিক ৭৬ বছর। নিহত অপর তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। প্রাথমিকভাবে তাকে গৃহকর্মী হিসেবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি ওই তরুণী আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। তবে কোনো নিকট আত্মীয় ঘটনাস্থলে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বাসার ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মিতালী আবাসিক এলাকার স্থানীয়রা জানান সকালে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কিত। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে এসএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার সকালের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা ওই বাসায় প্রবেশ করে তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে আরও কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুলে দেন। তবে বাথরুমের ভেতর থেকে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা সেখানে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
একই বাসায় একসঙ্গে তিনজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাসাটির সামনে ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, সম্পত্তিগত বিরোধ নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।






