মেঘ-পাহাড়ের সিলেটে এ কেমন আশ্বিন?
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৮:১৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট মানেই তো মেঘ-বৃষ্টির অবিরাম কোলাহল আর পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা এক টুকরো শীতলতা। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতায় যখন আশ্বিন, তখন সিলেটের আবহাওয়া যেন চেনা রূপ ভুলে এক তপ্ত রূপ ধারণ করেছে। পাহাড়ে পাহাড়ে মেঘের ছায়ার বদলে আজ কড়া রোদের দাপট। প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- মেঘ-পাহাড়ের সিলেটে এ কেমন তপ্ত আশ্বিন?
টানা দুই দিনই সিলেটের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায়। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস অর্থাৎ ৩৮ এর ঘরে। আর মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিলো ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী। তবে গতকাল তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী কমলেও গরমের তীব্রতা কমেনি একটুও। কারণ বাতাসে আদ্রতা ছিলো ৭১ শতাংশের কাছাকাছি।
সাধারণত আশ্বিনে সিলেটের হাওরগুলো শান্ত হয়ে আসে, সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় ভাসে সাদা মেঘের ভেলা। কিন্তু এবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের এই সন্ধিক্ষণে চলছে কড়া রোদের রাজত্ব।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এই গরমের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, সাগরের একটি বড় ধরণের সিস্টেমের কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি আরও দু-একদিন থাকতে পারে। ওদিকে, মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শরৎ কখন তার চিরচেনা শীতল রূপে ফিরবে, কখন নামবে স্বস্তির বৃষ্টি-সেই অপেক্ষায় এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে পুরো সিলেটবাসী।
এ অবস্থায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সিলেটের কথা বলা হয়নি।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সকাল ৬টায় কিয়াইকতো’র কাছে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করেছে। পরে এটি একই এলাকায় দুর্বল হয়ে মিয়ানমার এবং এর কাছাকাছি পূর্ব-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।





