মালয়েশিয়ায় প্লাইউড কোম্পানিতে ৩ মাসের বেতন বকেয়ার অভিযোগ ২৫০ শ্রমিকের
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাক্যাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন. বিএইচডির প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এতে মালয়েশিয়ায় থাকা শ্রমিকদের পাশাপাশি নিজ নিজ দেশে থাকা তাদের পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
১২ আগস্ট ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগকারী শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। তাদের দাবি, নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা কর্মপরিবেশ ও শর্তের সঙ্গে বাস্তবতার বেশ কিছু ক্ষেত্রে মিল নেই।
১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষে এক মুখপাত্র জানান, বেতন না পাওয়ায় তারা মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা ঋণ ও বাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়েছেন।
শ্রমিকদের দাবি, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসতে প্রত্যেকের প্রায় ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এর বড় একটি অংশ ব্যাংকঋণ, জমির বিপরীতে নেওয়া ঋণ ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে।
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগপত্রে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও তাদের দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এর বিনিময়ে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরি দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেছেন। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া কোম্পানি শ্রমিকদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে এবং বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত জামানত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি বলে দাবি তাদের।
এদিকে, কোম্পানির এক মুখপাত্র বেতন পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বেতনের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করেননি।
কোম্পানির মুখপাত্র বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করার কোনো প্রশ্নই নেই। যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শ্রমিকদের দাবির পরিমাণ প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের অন্যান্য অভিযোগ কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।






