বিদেশি কর্মী নিয়োগে অনলাইন আবেদনকে ইতিবাচক বলছে মালয়েশিয়ার শিল্পখাত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৭:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করাকে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে মালয়েশিয়ার শিল্প খাত। নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করতে সরকারি দপ্তরে গিয়ে ম্যানুয়ালি আবেদন জমা দিতে হবে না। ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) মাধ্যমে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশনের (এফএমএম) সভাপতি জ্যাকব লি চোর কোক বলেন, নতুন আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি চালু হয়েছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দ্রুত অনুমোদন, প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়োগ ব্যয় কমানো এবং নিয়োগকর্তাদের জন্য স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার ওপর।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৪ দিনের মধ্যে কন্ডিশনাল অ্যাপ্রুভাল লেটার (এসকেবি) দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই সময়সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাক্ষাৎকার ও বিদেশি কর্মী নিয়োগের লেভি পরিশোধসহ গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। লি চোর কোক মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের সময়সীমা আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানার সুযোগসহ কার্যকর স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশেও অনলাইন ব্যবস্থার উদ্যোগ: এদিকে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১৮ আগস্ট এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বৈধতা, বিদেশে কর্মীর চাহিদাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি স্তরকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে সক্রিয় চক্রগুলোর রুট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেকে জমিজমাসহ মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করেন। পরে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে পরিবার-পরিজন নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। তাই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বিদেশি নিয়োগকর্তারা যে ধরনের দক্ষতার কর্মী চান, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে সেই দক্ষতার কর্মী পাঠানো হয় না বলেও উল্লেখ করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার চালক সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ্ধতি চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।





