সিলেটে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর দাপট
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫:২৯ অপরাহ্ন
২১ দিনেই আক্রান্ত ১৪৪, মৃত্যু ২

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে গতি পেয়েছে। আগস্টের শেষে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯০ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনেই নতুন করে ১৪৪ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরে বিভাগে মোট আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৪ জনে, আর মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম ৭ মাসে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১০৫ জনের। এরপর আগস্টেই আক্রান্ত হন ৮৫ জন। সেপ্টেম্বরে রোগী শনাক্তের গতি আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও নতুন করে ৯ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংক্রমণের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। গত ২ আগস্ট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আফিয়া খানম (৫৪) মারা যাওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কৃষ্ণ দাস (৪৫) এবং ১৬ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের জুড়ীর ছলিমা বেগম (৬০) মারা যান। ফলে আগস্ট শেষে একজন থেকে সেপ্টেম্বরের ২১ দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
আগস্টেই মিলেছিল সতর্ক সংকেত:
চলতি বছরের শুরুতে সিলেটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকলেও আগস্টে চিত্র বদলে যায়। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১০৫ জন শনাক্ত হলেও আগস্টের ৩০ দিনেই আক্রান্ত হন ৮৫ জন। ১০ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩১; মাসের শেষদিকে তা বেড়ে ১৯০-এ পৌঁছে। আগস্টের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর সেপ্টেম্বরেও সংক্রমণ কমেনি; বরং ২১ দিনেই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আগস্টের পুরো মাসের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি হয়েছে। এতে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আক্রান্তে এগিয়ে হবিগঞ্জ:
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৪ জন। এর মধ্যে হবিগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৩৯ জন, সুনামগঞ্জে ৭৬, সিলেটে ৭১ এবং মৌলভীবাজারে ৩৬ জন রয়েছেন। এছাড়া অন্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া ১২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
এডিস নিয়ন্ত্রণে জোর প্রয়োজন:
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেকেরই ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে। পরিবারের একজন বাইরে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সদস্যদের স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে নগরীর ১৯ হাজার ৫০০ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯৯০টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। গত বছর লার্ভা পাওয়ার হার ৬ শতাংশের বেশি থাকলেও এবার তা প্রায় ৫ শতাংশ। এডিস নিধন অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পাশাপাশি তার আশপাশের এলাকায় এডিসের প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করা জরুরি। বিশেষ করে ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে সেপ্টেম্বরের ২১ দিনে ১৪৪ রোগী শনাক্ত ও দুই মৃত্যু-সিলেটে ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বার্তা হলো সংক্রমণের গতি। আগস্টে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের চিত্রে সেটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে বাকি বর্ষা-পরবর্তী সময়ের জন্য মশক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা প্রস্তুতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কর্মসুচী জোরদারের আহ্বান নগরবাসীর।





