জকিগঞ্জে সেতুর অভাবে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন
এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর ওপর সেতু না থাকায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই স্থানীয়রা ওই স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুরমা নদীর ওই স্থান দিয়ে প্রতিদিন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার হাজারো মানুষ চলাচল করেন। কানাইঘাট উপজেলার কাড়াবাল্লা, বড়চাতল, কান্দি, দনা ও খাসিয়াপুঞ্জিসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় কাজে জকিগঞ্জে আসেন। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে এসব এলাকার সঙ্গে জকিগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগও গড়ে ওঠেনি।
অন্যদিকে জকিগঞ্জের চারিগ্রাম, মরিচা, জালালাবাদ, নালুহাটি ও রায়গ্রামসহ প্রায় ২০-২৫টি গ্রামের মানুষও এই পথ ব্যবহার করে কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
স্থানীয়রা জানান, কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত তাজা সবজি, ফল, পানসহ বিভিন্ন পণ্য জকিগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই পথ দিয়ে সংগ্রহ করেন। তবে সেতু না থাকায় পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে যায়।
শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপার করেন। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে নৌকাই হয়ে ওঠে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মঙ্গলবার আটগ্রামের সুরমা নদীর ওই স্থান পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।
আটগ্রামস্থ লতিফিয়া ইসলামিক আইডিয়াল একাডেমির প্রিন্সিপাল ইয়াহইয়া আহমদ চৌধুরী বলেন, কানাইঘাটের খাসিয়াপুঞ্জি ও বড়চাতলসহ বিভিন্ন এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। বড়চাতল এলাকায় একটি গ্যাসক্ষেত্রও রয়েছে। ১৯৮১ সালে স্বল্প মজুদের অজুহাতে গ্যাসক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে গেলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এলাকাটি এখনো পর্যটকদের আকর্ষণ করে। অথচ একটি সেতুর অভাবে সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলটি টেকসই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাদিকুর রহমান বলেন, এ স্থানে সেতু না থাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর সুযোগে কানাইঘাট সীমান্তবর্তী দনা ও খাসিয়াপুঞ্জি এলাকা চোরাচালানের রুটে পরিণত হয়েছে। এই পথে চিনি, গরু ও মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে আনা-নেওয়া হয়।
দনা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ছাত্তার মিয়া বলেন, পাহাড়-টিলা বেষ্টিত দনা এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তারা অন্য এলাকার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসাসেবার অভাবে প্রসূতি মায়েদেরও নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। আটগ্রামের সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মরিচা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুদ্দৌলাহ মান্না বলেন, জনগণের স্বার্থে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে না, তা তিনি জানেন না। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ হয়তো সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ও প্রকল্পের ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে না। আবার জনপ্রতিনিধিরাও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রকল্পটি আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারেন। তবে যেকোনো উপায়ে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম চলছে কি না, তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনাও নেই।






