সিলেট জুড়ে ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫৬:২৮ অপরাহ্ন
যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার : তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল সিলেটের মানুষ। দেশব্যাপী তুলনামুলক কমলেও সিলেটে হঠাৎ বেড়েছে লোডশেডিং। কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ থাকাকে এজন্য দায়ী করছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। গত তিন-চার দিন ধরে কুমারগাঁও প্লান্টটি বন্ধ থাকায় সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে সিলেটের নগর থেকে গ্রাম- সর্বত্র ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
তবে ত্রুটি সরিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুমারগাঁও প্লান্টটি চালুর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে চলমান দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিনের বেলায় সিলেট অঞ্চলে ২৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ২১২ ওয়াট। ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হয়েছে। কুমারগাঁও প্লান্টটি বন্ধ থাকায় লোডিং কন্টিনিউ করা যাচ্ছেনা। এতে বাড়ছে লোডশেডিং।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৫৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় প্রায় ১৯০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা, ছোট কারখানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নগরের বাসিন্দারা জানান, দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর রাতেও একই পরিস্থিতি চলছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির পাম্প চালানো, রান্নাবান্না ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর দোকান ও ছোট কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় সময়মতো অর্ডার সরবরাহ নিয়েও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
নগরের বাইরে পরিস্থিতি আরও কঠিন। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় দিনে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, কুমারগাঁও কেন্দ্র বন্ধ থাকায় সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি ভোল্টেজও কমে যাচ্ছে। ভোল্টেজ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পিডিবি সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটির একটি ভালভে সমস্যা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনার পর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পিডিবি সিলেট অঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির দৈনিক জালালাবাদকে জানান, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি সরিয়ে দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।






