সুরমা নদীর ৫১ কিমি ড্রেজিং ও প্রতিরক্ষা কাজ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হবে : মন্ত্রী মুক্তাদির
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন

সিলেট শহর ও আশপাশের এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইল এলাকায় সুরমা নদীর বামতীরে তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজটির উদ্বোধন করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে মন্ত্রী জানান, সুরমা নদীর প্রায় ৫১ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। নদীর তলদেশের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তীর রক্ষার কাজ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সুরমা নদী ও চেঙ্গার খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, চলমান পরিকল্পনার আওতায় কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, মিরেরচকে ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, টোকেরবাজারে ৫০০ মিটার এবং মিরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এছাড়া কুশি নদী ২৩ কিলোমিটার ও বাসিয়া নদী ২৩ কিলোমিটার পুনর্খনন এবং সুরমা নদীতে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ রয়েছে। শারী-গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার এবং মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজও পরিকল্পনায় রয়েছে।
সিলেটের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও জানান খন্দকার মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার বাঁধ ও সুরক্ষা সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় যোগাযোগে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় তদারকি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে এ কমিটি গঠনের কথা বলেন তিনি। কমিটি নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান।
নগরীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে নাইট-ভিশন ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সুবিধাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ও ডিজিটাল ট্রাফিক লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রযুক্তি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিচালনা করবে। সড়ক ও নদীতীরের গাছ কাটার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেখানেই গাছ কাটা হবে, সেখানে নতুন করে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
নিত্যপণ্যের বাজারদর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষে শীতকালীন সবজি বাজারে আসার আগ পর্যন্ত সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় বাজারে এর প্রভাব পড়ে। গরমের সময় হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া ও ডিম নষ্ট হওয়ার কারণেও দামে কিছুটা তারতম্য হয়েছে। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি





