বাস মালিক-শ্রমিকদের বিরোধে দুর্ভোগে যাত্রীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৯:৩৪ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে পরিবহন ধর্মঘট

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
গত বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এ ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে আবার বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের নিয়মে বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাস চলাচল করছিল।
আবু মঈন চৌধুরীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। এরপর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বাসগুলো নির্বিঘেœ চলাচল করুক। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। সমস্যা সমাধানে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা প্রয়োজন।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জ থেকে সিলেটসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। হঠাৎ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।






