মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিই বড় অর্জন : ব্যারিস্টার সালাম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২০:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম. এ. সালাম বলেছেন, মানবিক কাজে এসে প্রতিদানের হিসাব করা যায় না। যারা রেড ক্রিসেন্টের পতাকাতলে এসেছেন, তারা কী পাচ্ছেন, তা না ভেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে প্রস্তুত করাই জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া ও অর্জন।
তিনি বলেন, ফার্স্ট এইড ও টিওটি প্রশিক্ষণ স্বেচ্ছাসেবকদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। যেকোনো জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করে এ প্রশিক্ষণ। এতে অর্জিত জীবনরক্ষাকারী জ্ঞান যুব স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আজীবনের সম্পদ। সমাজ ও দেশের প্রতি এই অর্জন এবং দায়িত্ববোধ আজীবন লালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) সিলেট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে যুব স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) অন অ্যাডভান্সড ফার্স্ট এইড’ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে এবং ইউনিট সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রেড ক্রিসেন্টের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক সাইমা ফেরদৌসী এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতিনিধি ড. জলিসা খানম।
সভাপতির বক্তব্যে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, সিলেট একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রেড ক্রিসেন্টের যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করেন। অ্যাডভান্সড ফার্স্ট এইড টিওটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব সদস্যরা দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে উঠেছেন। অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়ে তারা আরও অনেক জীবনরক্ষাকারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে পারবেন।
ইউনিট সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত যুব বাহিনী গড়ে তোলাই সিলেট রেড ক্রিসেন্টের মূল লক্ষ্য। ছয় দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক। তারা এখন নিজেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও প্রশিক্ষিত করতে পারবেন। মানবিক সেবার মান বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ছয় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মূল প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মৃণাল কান্তি, মিজানুর রহমান জীবন, কাজী এমদাদুল হক ও দিদারুল আলম। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা, ট্রায়াজ, কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) এবং দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনার আধুনিক কৌশল শেখানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী যুব স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে প্রশিক্ষণ সমাপনী সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। বিজ্ঞপ্তি






