কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অ্যাকশন রিসার্চ জরুরি : সিকৃবি ভিসি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২২:৩১ অপরাহ্ন

সিলেট অঞ্চলে অভিযোজনভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনার শুরু হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ‘ন্যাশনাল সেমিনার অন অ্যাডাপটিভ ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইন সিলেট’ শীর্ষক এ সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিএম অনুষদের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুক্তারুন ইসলাম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) পরিবেশ ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. হামিদুল হক, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. ফারহানা আহমদ এবং শেভরন বাংলাদেশের ফিল্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার খন্দকার তুসেরুজ্জামান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ হাসান নূর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার বলেন, সিলেট অঞ্চল আমাদের দেশের একটি অনন্য ভৌগোলিক ও জলবায়ু সংবেদনশীল এলাকা। এখানকার অতিবৃষ্টি, ঘন ঘন বন্যা এবং হাওরভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা এ অঞ্চলকে পানি ব্যবস্থাপনার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এ অঞ্চলের সীমিত সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঞ্চিত অভিজ্ঞতার সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও হাওরের সমস্যা নিয়ে এখনো অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে তা পূরণে মাঠপর্যায়ে অ্যাকশন রিসার্চ পরিচালনা করা জরুরি। উপাচার্য বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফল যেন কেবল প্রতিবেদন বা প্রবন্ধে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব কাজে লাগে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজনমূলক উদ্যোগ গ্রহণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা, উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, তরুণদের জন্য হাওরাঞ্চলে অভিযোজনভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং আঞ্চলিক ব-দ্বীপ ও হাওরাঞ্চলের কার্যক্রম নিয়ে কারিগরি অধিবেশনের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে সিলেট অঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অভিযোজন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বিজ্ঞপ্তি





