ফল আমদানি থেকে সরকারের আয় ৬ হাজার কোটি টাকা
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১১:১৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশে আঙুর, আপেল, কমলার মতো তাজা ফল আমদানি গত পাঁচ বছরে কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ। অথচ এ খাত থেকে সরকারের শুল্ক আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফল আমদানি থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ফলের ওপর শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)।
কমিশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি আমদানিকারকেরা ৫ লাখ ৭০ হাজার টন তাজা ফল আমদানি করেছেন। এর বেশিরভাগই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। পাঁচ বছর আগে, অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় এ আমদানি ২৯ শতাংশ কম।
আমদানি করা ফলের চড়া দাম নিয়ে জনমনে অসন্তোষের মধ্যে এ বিশ্লেষণ করেছে কমিশন। আমদানি তুলনামূলক বেশি কমেছে আপেল ও কমলার। এ বছর ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় কিছু ফলের চাহিদা বেড়েছে। ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের প্রায়ই বেশি তরল পান করার পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ কমলা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে কয়েকবছর ধরে চলা মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে তাদের পক্ষে ফল কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি আপেল ২৫০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে প্রতি কেজি আপেল কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। আপেল, আঙুর, নাশপাতি, কমলা, কমলা জাতীয় ম্যান্ডারিনসহ বিভিন্ন ফল আমদানিতে শুল্ক ও করের মোট হার প্রায় ৮৯ শতাংশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশনে বলেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮ লাখ টন তাজা ফল আমদানি করেছিল। সে সময় শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ আমদানি পর্যায়ের অন্যান্য কর মিলিয়ে মোট করের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুল্ক বাড়াতে শুরু করলে ফলের আমদানি কমতে থাকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফল আমদানিতে মোট শুল্ক ও করের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে।
২০২৩ সালে ডলার সংকট দেখা দেওয়ার পর শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন আরোপ করে সরকার। ডলার সাশ্রয়ে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে ১২১ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়ায়। শুল্ক বৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে তাজা ফলের দাম সামগ্রিকভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খুচরা বিক্রেতারা পাইকারদের চেয়ে বেশি মুনাফা রাখছেন।
বিটিটিসি বলেছে, আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও ডালিমের কোনো বাণিজ্যিক উৎপাদন বাংলাদেশে নেই। ফলে এসব ফলের চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কমিশনের মতে, এসব ফলের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে দেশীয় উদ্যানতাত্ত্বিক শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার যুক্তি নেই। কারণ দেশে এসব ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদন না থাকলেও আমদানি কমে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আপেল, কমলা ও আঙুর আমদানিতে শুল্কের হার তুলনা করে বিটিটিসি দেখেছে, তাজা ফল আমদানিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শুল্ক সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে কম নেপালে।
বিটিটিসি বলেছে, মোট শুল্কের হার কমিয়ে ৮৯ শতাংশে নামানো হলে এবং ফল আমদানি বেড়ে ৮ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছালে এনবিআর ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি শুল্ক আদায় করতে পারবে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে সরকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ফলের দাম বেড়ে গেছে। ফলে অনেক মানুষ পুষ্টিকর ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।





