যুক্তরাজ্যে নতুন অভিবাসন নীতিতে স্বস্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০৪:০৫ অপরাহ্ন

এনামুল হক, বার্মিংহাম (যুক্তরাজ্য) : যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পাওয়ার নিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বিদ্যমান কেয়ার ও স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে লেবার পার্টির সরকার। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সংসদে দেওয়া ঘোষণার পর দেশজুড়ে কেয়ার কর্মী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে সরকারের নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও অব্যাহত রয়েছে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সংসদে সরকারের নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ সংক্রান্ত নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। নতুন নীতিতে অধিকাংশ সাধারণ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে কর্মরত কেয়ার ও হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব কেয়ার ও হেলথ কেয়ার কর্মী ২০২৫ সালের ১২ মে বা তার আগে যুক্তরাজ্যে এসেছেন কিংবা এই ক্যাটাগরিতে ভিসা পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের জন্য আগের পাঁচ বছরের রুট বহাল থাকবে। তবে পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে হলে কর্মীদের বছরে কমপক্ষে ২৫ হাজার পাউন্ড বেতন অথবা নির্ধারিত স্পনসরশিপ-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।
শর্ত পূরণে ব্যর্থ কর্মীদের জন্যও বিকল্প সুযোগ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পাঁচ বছর পর নির্ধারিত বেতনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তাঁদের আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে না। বরং তাঁদের আরও পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসার সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১০ বছর শেষে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১২ মে-এর পর কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা কর্মীদের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছরের রুট কার্যকর হবে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আইএলআর আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের বেশ কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁদের কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড বা দণ্ড থাকা যাবে না। ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মান বি১ থেকে বাড়িয়ে বি২ করা হয়েছে। সরকারের কাছে কোনো বকেয়া বা দেনা থাকা যাবে না। এ ছাড়া আবেদনের আগের পাঁচ বছরে কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না।
কেয়ার সেক্টর ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার (এনএইচএস) কর্মীদের অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন নীতিতে এই ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে থাকা হাজার হাজার অভিবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমেছে। তবে অন্যান্য ওয়ার্ক পারমিটধারীদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ এবং কঠোর শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টি এবং ডানপন্থী দল হিসেবে পরিচিত রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কেয়ার কর্মী যুক্তরাজ্যে আইএলআরের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখে পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসা কেয়ার কর্মী প্রিয়া চৌধুরী বলেন, পাঁচ বছরে আইএলআরের আবেদনের সুযোগ কেয়ার কর্মীদের যৌক্তিক প্রাপ্য ছিল। সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে। এ জন্য হাজার হাজার কেয়ার কর্মীর পক্ষ থেকে তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য সরকার আইএলআর পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ কিংবা ১৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়ে জনমত যাচাইয়ের জন্য একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ জানান। বিদ্যমান কেয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল রাখার ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।






