একটি ব্রিজের অভাবে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ৬:০৫:০৬ অপরাহ্ন
এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ:
জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বহুবার ব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠলেও আজো বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার বদল হলেও জনদুর্ভোগ লাঘবে এ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি এখানকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিদিন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। কানাইঘাট উপজেলার কাড়াবাল্লা, বড়চাতল, কান্দি, দনা ও খাসিয়াপুঞ্জিসহ বহু গ্রামের মানুষের প্রশাসনিক কাজ ব্যতীত অন্যান্য প্রয়োজনে জকিগঞ্জে আসতে হয় এই পথ ধরে। কানাইঘাটের পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এখনো সড়কপথে কোনো সংযোগ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে জকিগঞ্জ উপজেলার চারিগ্রাম, মরিচা, জালালাবাদ, নালুহাটি ও রায়গ্রামের মানুষও বহুদিন ধরে এ পথ ব্যবহারের মাধ্যমে কানাইঘাটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
বিশেষ করে খাসিয়াপুঞ্জিসহ কানাইঘাটের প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এলাকায় জকিগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নিয়মিত গমনাগমন করেন। মৌসুমভেদে তাজা সবজি, ফলমূল, পানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এই পথই একমাত্র ভরসা। কিন্তু একটি ব্রীজ না থাকায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শুকনো মৌসুমে বাঁশ-কাঠের সাঁকো দিয়ে কোনোভাবে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষায় নির্ভর করতে হয় একমাত্র নৌকার উপর, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সোমবার এলাকা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় জনসাধারণকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। আটগ্রামস্থ লতিফিয়া ইসলামিক আইডিয়াল একাডেমির প্রিন্সিপাল ইয়াহইয়া আহমদ চৌধুরী বলেন, খাসিয়াপুঞ্জি ও বড়চাতলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অদ্বিতীয়। বড়চাতলে গ্যাসক্ষেত্র থাকায় এ এলাকা আরও সম্ভাবনাময়। পর্যটন বিকাশের বড় সুযোগ থাকা সত্তে¡ও একটি ব্রিজ না থাকায় উন্নয়ন থমকে আছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাদিকুর রহমান বলেন, ব্রিজ না থাকায় এ পথে যথাযথ তদারকি করতে পারে না পুলিশ ও প্রশাসন। ফলে দনা ও খাসিয়াপুঞ্জি এলাকা আন্তঃদেশীয় অপরাধীদের জন্য নিরাপদ রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত চিনি, গরু ও মাদক চোরাচালানের ঘটনাও ঘটে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকও এই পথ দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েছিলেন।
দনা এলাকার বাসিন্দা ছাত্তার মিয়া বলেন, পাহাড়-টিলা বেষ্টিত আমাদের এলাকায় সভ্যতার অগ্রগতির ছোঁয়া পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে শুধুমাত্র একটি ব্রীজ না থাকার কারণে। চিকিৎসাসেবার অভাবে প্রসূতি মায়েদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আম্বিয়া বলেন, ব্রিজ নির্মাণ জনগণের ন্যায্য দাবি হলেও কোন কারণে কাজটি হচ্ছে না তা স্পষ্ট নই। হয়তো সুবিধাভোগী জনসংখ্যা কম ধরে কর্তৃপক্ষ ব্যয়বহুল প্রকল্পে যেতে চাইছেন না, অথবা জনপ্রতিনিধিরা উচ্চপর্যায় থেকে আদায় করতে পারছেন না। তবে এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব জরুরি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম চলছে কি-না আমি জানি না। আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বর্তমানে কোনো পরিকল্পনাও নেই।
সচেতন মহল মনে করেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে একটি জনবহুল অঞ্চলকে এভাবে পিছিয়ে রাখা দুঃখজনক। অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে দ্রæত সুরমা নদীর উপর একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করা সময়ের দাবি। তাঁরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।





