নগরে কিশোর গ্যাং-বিরোধে ফের কিশোর খুন : আটক ৩
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০১:৩৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীতে ১৮ দিনের মাথায় কিশোর গ্যাং বিরোধে ফের এক কিশোর খুন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধিন ইলাশকান্দি এলাকায় স্থানীয় দুটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন শাহ মাহমুদ হাসান তপু (১৫) নামের এক কিশোর। সে ইলাশকান্দির উদয়ন ৪০/২ এলাকার বাসিন্দা শাহ এনামুল হকের ছেলে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এই ঘটনায় ৩ জনকে আটকের কথাও জানান তিনি।
এসএমপি জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইলাশকান্দি এলাকায দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের প্রধান জাহিদ হাসান এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তপুকে গুরুতর জখম করেন। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা তপুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৬টায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানায় পুলিশ। তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান। এদিকে এই ঘটনায় এসএমপির এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসানসহ তার দুই সহযোগী—অনিক মিয়া ও জুনায়েদ আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার অনিক মিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ও বর্তমান ঠিকানা সিলেটের লোহারপাড়া। আর জুনায়েদের স্থায়ী ঠিকানাও দিরাইয়ের ভাটিপাড়া, বর্তমান ঠিকানা লোহারপাড়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ নভেম্বর সোমবার নগরীর বালুচর এলাকায় কিশোর গ্যাং গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোঃ ফাহিম (২৩) কে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনার রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে নিয়ে সিলেটে আসার পথে ১২ নভেম্বর ভোররাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফাহিম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাহিমের বড় ভাই মো. মামুন আহমেদ (২৫) ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সে এলাকায় ‘বুলেট মামুন গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতো। গত ১০ অক্টোবর মামুনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১১টি মামলা আছে। মামুন কারাগারে যাওয়ার পর ছোট ভাই ফাহিম বালুচর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। পরে খুন হন ফাহিম।





