সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির আবহে জামায়াতের ইফতার : এক কাতারে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭:৫১ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আবহে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল। এতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষ নেতারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ।
ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ওলামা-মাশায়েখ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ইফতারে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ অনেক আশা, প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এখন সবাইকে কাজ করতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, আসুন, আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।
এ সময় তিনি নিজের পাশাপাশি বিএনপি নেতা এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ইফতারের দাওয়াত দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানান।
তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ এক যুগের বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে। বিভিন্ন অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুনের শিকার হয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ আমরা ফিরে পেয়েছি।
তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আমাদের আল্লাহ-তাআলা দেবেন।
জামায়াতের আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে সঞ্চালনা করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ইফতার মাহফিলে আরও অংশ নেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতা, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, কবি সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে গতানুগতিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পরিবর্তে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর রাজনীতি করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের যখন ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হরতাল ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, ‘আজকে তাঁর (খালেদা জিয়া) সন্তানের ওপরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়েছে। আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে এই সংসদে ফাংশন করতে চাই না। আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্র।’
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দলও যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। আমরাও বিরোধী দলের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই। অতীতে আমরা বিরোধী দল দেখেছি। নির্বাচন যেমন আমি-ডামি ছিল, বিরোধী দলও তেমনি আমি-ডামি ছিল। এই ধরনের কোনো বিরোধী দল কোনো দেশের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনতে পারে না।
সরকারের গৃহীত সকল সংগত পদক্ষেপে বিরোধী দলের পূর্ণ সমর্থন থাকবে জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি যে সরকার কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত কিংবা পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা করব। সরকার আমাদের পরামর্শগুলো গ্রহণ করলে আমরা কৃতজ্ঞ হব, জাতি উপকৃত হবে। সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা সেটাই আমরা পালন করব। আমরা জাতীয় অধিকারের পক্ষে দাঁড়াব এবং জাতিকেও আমাদের সঙ্গে শামিল থাকতে বলব।’
ইফতারের আগে দেশের সমৃদ্ধি, শান্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।





