সুনামগঞ্জে কৃষকের হাহাকার
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মে ২০২৬, ৭:৫০:১৬ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বোরো ফসল| বুকসমান পানিতে নেমে কিংবা নৌকা ভাসিয়ে কৃষকেরা ধান কেটে খলায় তুলছেন| কিন্তু রোদের অভাবে সেই ধান শুকানো যাচ্ছে না| খলাতেই ভিজে নষ্ট হচ্ছে ফসল| কেউ কেউ ফ্যানের বাতাসে শুকানোর চেষ্টা করছেন| ঘরে উগারভরা ধান নেই, দিন দিন নিঃ¯^ হচ্ছেন কৃষকেরা| হাওরপাড়ে দাঁড়িয়ে ডুবে যাওয়া ক্ষেতের দৃশ্য দেখে শুধুই কাঁদছেন|
কৃষকদের ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়| পরে টানা ভারী বর্ষণে ফসল তলিয়ে যায়—এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি তারা| একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে হারভেস্টার ব্যবহার অচল| কাটা ধানও কাদাজল মাড়িয়ে ঘরে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে| তাদের দাবি সাবমার্সিবল সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্র, পর্যাপ্ত নৌকা এবং ভেজা ধান শুকানোর জন্য ড্রায়ার মেশিনের ব্যবস্থা করা হোক|
হাওর ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে ˆথথৈ পানি| ডুবে আছে ফসল| খলায় ভেজা ধান পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে| না মানুষ, না পশু—কেউই তা ব্যবহার করতে পারছে না| শ্রমিক না থাকায় কৃষকেরাই পানিতে নেমে ধান কাটছেন| অনেক ধান রোদের অভাবে ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে, তবুও কিছু ভালো ধান পাওয়ার আশায় বস্তাবন্দি করে রাখছেন তারা|
ছায়ার হাওরের কৃষক কনক চৌধুরী জানান, ১০০ কেদার জমির মধ্যে ১৫ কেদার কেটে মাত্র ১০০ মণ ধান পেয়েছেন| রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পেরে ফ্যানের বাতাসে শুকানোর চেষ্টা করছেন, অতিরিক্ত ভেজা ধান পুকুরে ডুবিয়ে রাখার পরিকল্পনাও করছেন| শনির হাওরের কৃষক আনিসুল হক, যিনি প্রতিবছর ১০ হাজার মণ ধান পান, এবার পেয়েছেন মাত্র ২০০ মণ| তার ম্যানেজার সবুজ মিয়া জানান, ধান বস্তাবন্দি করে পুকুরে রাখা হয়েছে-রোদ উঠলেই তোলা হবে|
শিয়ালমারা হাওরের কৃষক রেদোয়ান বলেন, ২০ কেদার জমির সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে—উগারে ধান নেই, হাতে টাকা নেই| একই এলাকার রুস্তম আলী জানান, কষ্টে কাটা ধান খলায় এনে বৃষ্টিতে ভিজে চারা গজিয়েছে| শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আর কম দামে ধান বিক্রি—দুই দিকেই লোকসান| এ চিত্র শুধু একটি হাওরের নয়—সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরেরই একই অবস্থা|
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তবে তথ্যানুযায়ী, জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে| উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ লাখ মেট্রিক টন (প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার)| এরমধ্যে জলাবদ্ধতায় ২০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল| এতে প্রায় ২০ হাজারের উপরে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন| এ পর্যন্ত ৫৯ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে| আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে পাশে আছি|
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে| গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে এখনো বিপদসীমার ১.৫৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে| এ সময় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে|





