সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মে ২০২৬, ১০:০৫:২৫ অপরাহ্ন
ওসমানীতে বিশেষ ইউনিট চালু

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম। গত ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৪ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এনিয়ে হাম উপসর্গে নিয়ে সিলেট বিভাগের মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।
শুক্রবার (৮ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যান ৫ মাস বয়সী শিশু মাহদী হাসান। সে সিলেট নগরীর সুরমা আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া এই সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬ মাস বয়সী মুসতাকিন সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, একই হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৭ মাস বয়সী জারা সুনামগঞ্জ জেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা ও ৮ মাস বয়সী রায়হানা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ল্যাব পরীক্ষায় আরও ১ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৮ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪২। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৩ (রুবেলা আক্রান্ত ২), মৌলভীবাজারে ১৬, সুনামগঞ্জে ৭১ ও সিলেট জেলার রোগী ৪২ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় হাম সন্দেহে আরো ৫৩ জন শিশু সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ২৯, রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৬০, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৪১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১০৪, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪, আল হারামাইন হাসপাতালে ২, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২, পার্কভিউ হাসপাতালে ২, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনীর জানিয়েছেন, হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওসমানী হাসপাতালে ৩২নং ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। এহাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১০০টি। এ হাসপাতালে বর্তমানে অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসাধিন রয়েছেন। রোগীরা সেখানে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সিলেটে হামের রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আরেকটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালুর জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওসমানী হাসপাতালের নতুন এই (৩২নং ওয়ার্ড) ইউনিট চালু করা হয়েছে। ওসমানী ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।





