রায়নগরে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুনে মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুন ২০২৬, ৯:০৮:৪৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকায় বন্ধুর হাতে খুন হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত জুয়েল (২৬) এর বাবা রহিম উদ্দিন। মামলায় ঘাতক মো. হাবিল (২৬) কে আসামী করা হয়েছে। হত্যা মামলায় আটক ঘাতক হাবিল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে ওসমানী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি খান মোঃ মাইনুল জাকির। সোমবার বাদ আসর স্থানীয় দপ্তরিপাড়া জামে মসজিদে নিহতের জানাযার অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জুয়েল ও ঘাতক মো. হাবিল বন্ধু ছিলেন। রোববার (৩১ মে) সকাল ১১টার দিকে স্ত্রী’র পরকিয়া সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই জনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারির একপর্যায়ে মো. হাবিল জুয়েলকে টেনে পার্শ্ববর্তী গোয়ালীছড়া খালে ফেলে দেয় এবং তার সাথে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে ভিকটিমের গলা, পিঠ ও বুকে একাধিক আঘাত করে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন জুয়েলকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে স্থানীয়রা মো. হাবিলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সৌপর্দ করেন।
নিহত জুয়েল দপ্তরিপাড়ার সাকেরের কলোনীর বাসিন্দা এবং পেশায় প্রাইভেট কার চালক বলে জানা গেছে। ঘাতক হাবিল নগরীর শাহপরান থানাধীন বালুচর মঈনুল মিয়ার বাসার মো. আলীর ছেলে। আর নিহত জুয়েলের মূল বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার ভেরা ১০নং সিধলা ইউপি এলাকায়। উভয়জনই মাদকাসক্ত বলে স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহত জুয়েলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আসর স্থানীয় দপ্তরিপাড়া জামে মসজিদে জানাযা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে এই ঘটনায় ঘাতক হাবিলকে আসামী করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা রহিম উদ্দিন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, ঘাতক হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।





