সীমান্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান কাঁটাতারের বেড়া নয় : পাটওয়ারী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুন ২০২৬, ৮:৩৫:২৮ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: সীমান্তে কেবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে সীমান্ত সমস্যার একমাত্র বা পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে দেখা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমš^য়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী| বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন|
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর ও জটিল সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের জন্য একটি সমšি^ত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য|
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন| দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে|
তবে সীমান্ত সুরক্ষায় কেবল সামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ| যে সমস্ত সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট সুযোগ নেই, উন্নত ¯^াস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপর্যাপ্ত এবং রাষ্ট্রীয় সেবার উপস্থিতি খুবই দুর্বল, সেখানে শুধু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অসম্ভব| সীমান্তবাসী যদি মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকে, তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কখনোই টেকসই হতে পারে না|
পোস্টে তিনি একটি শক্তিশালী সীমান্ত গড়ে তোলার জন্য তিনটি মূল ভিত্তির কথা উল্লেখ করেন— শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আধুনিক জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত সীমান্ত জনপদ| তিনি বলেন, সীমান্তবাসীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক হাসপাতাল ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব| কারণ, সীমান্তের মানুষ কেবল ভৌগোলিকভাবেই নয়, বাস্তব অর্থেও রাষ্ট্রের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে|
তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তা কেবল কাঁটাতারের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি মূলত শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কার্যকর রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিক আস্থা এবং সীমান্তবাসীর মর্যাদার ওপর টিকে থাকে| একটি দূরদর্শী রাষ্ট্র সীমান্তকে কেবল নিরাপত্তার চোখ দিয়ে দেখে না, বরং একে উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সংহতির একটি সমšি^ত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে| তাই সীমান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ হলো— শক্তিশালী সীমান্ত, শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং শক্তিশালী সীমান্ত জনপদ|




