চীনে রপ্তানি ১ বিলিয়নের হাতছানি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুন ২০২৬, ৭:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যে যে দেশ দীর্ঘদিন ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই চীনে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে আশার আলো দেখা দিয়েছে| প্রথমবারের মত ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের হাতছানি দিচ্ছে| বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) চীনে প্রায় পৌনে ১ বিলিয়ন (৭৪ কোটি ২৫ লাখ) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি| এর আগে কোনো আর্থিক বছরের পুরো সময়েও চীনে পণ্য রপ্তানি থেকে এই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আসেনি|
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার; আর পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) আয় হয়েছিল ৬৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার| চীনের বাজারে পণ্য রপ্তানি থেকে এর আগে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৯৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলার|
বড় বড় বাজারে হতাশার মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে রপ্তানি বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা| তারা আশা করছেন, জুনের তথ্য যোগ হলে চীনে রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে|
এমন পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| সরকারপ্রধান দ্বিতীয় বিদেশ সফর হিসেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটিকে বেছে নিয়েছেন| এর আগে ২১-২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন|
জাতীয় রাজ¯^ বোর্ড ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গেল পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, রপ্তানির পরিমাণ গড়ে প্রায় ৭০ কোটি ডলার হলেও ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ| ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) চীন থেকে ১৮ বিলিয়ন (১ হাজার ৮০০ কোটি) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ| বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৭ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য|
এ হিসাবে ১০ মাসে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩২ কোটি ৭৪ লাখ (১৭.৩২ বিলিয়ন) ডলারে, যা মোট বাণিজ্য ঘাটতির তিন-চতুর্থাংশের বেশি| বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের ১০ মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার|
বিশাল অঙ্কের এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের পাশেও দাঁড়িয়েছে চীন| ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় দেশটি| ২০২২ সালে এসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৯৮ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যকে দেওয়া হয় এ সুবিধা| পরের বছর যুক্ত হয় আরো ৩৮৩টি পণ্য| ২০২৩ সালের অগাস্টে নতুন করে ১ শতাংশ, আর গত ডিসে¤^র থেকে ¯^ল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শতভাগ পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় চীনা সরকার|
ধাপে ধাপে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতা বাড়ালেও এই সুবিধার সুফল ঘরে তুলতে পারছে না বাংলাদেশ| প্রশ্ন উঠেছে, চীনের মতো বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশে এমন সুযোগ পেয়েও কেন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে না ? সমস্যা কি সক্ষমতার ঘাটতি, পণ্যের ˆবচিত্র্যহীনতা নাকি কৌশলগত ভুল ?
ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে চীনে ৬৭ দশমিক ২৬ লাখ ডলারের যেসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মধ্যে ২০ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের ˆতরি পোশাক রয়েছে| এছাড়া ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পাট ও পাটজাতপণ্য, ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারের চামড়া-চামড়াজাত পণ্য, ১ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ডলারের জুতা, ৭২ হাজার ১০ হাজার ডলারের হোম টেক্সটাইল এবং ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের প্লাস্টিক দ্রব্য রপ্তানি হয়েছে| গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) চীনে ৬৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ| আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছিল ২ দশমিক ৯২ শতাংশ|





