মাজারে অপরাধ করলে শাস্তি দ্বিগুণ : শাহপরান মাজারে জেলা প্রশাসক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুন ২০২৬, ৯:০৮:৫৭ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালালের মাজারে দানবাক্স বসানোর পর এবার শাহপরানের মাজার পরিদর্শনে গেলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তিনি শাহপরান মাজারে যান। নামাজের পূর্বে মাজার মসজিদে বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, শাহপরান মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং মাজারে মদ-গাঁজার আসর পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন, উনাদের উসিলায় যে কোন বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়াদের মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজার কেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকবে।
মানুষ দানের ক্ষেত্রে কোন জিনিস চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় কোন জিনিস করবেন এবং তার দানের টাকার স্বচ্ছতা থাকবে। কেউ মেরে নিয়ে যাবে না। তখন সে মন খুলে দান করবে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা।
মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই মাজারগুলি পবিত্র স্থান। এই মাজারগুলির আয়ের হিসেব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না। আরেকটা অনুরোধ থাকবে, এই মাজারগুলোতে যাতে কোনভাবে মদ-গাঁজার আসর না বসে। এই অভিযোগগুলো কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই আসে- অমুক মাজারে মদ খাইতেছে, গাঁজা খাইতেছে। এটা করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ, আরেকটা হচ্ছে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করছে। আমরা কিন্তু এই বিষয় এখন শক্ত অবস্থান নেবো। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। এখন থেকে মাজারে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারী থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর। তাতে ওলি-আউলিয়া যে উদ্দেশে আসছিলেন সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে। এখানে আসলেই যেনো মনে পবিত্রতা আসে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মাজারের আয় থেকে সরকার এক পয়সাও নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মাজারের দান হাতে কালেকশন করবেন না। বক্সে নিবেন। স্বচ্ছতা রাখবেন। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে শাহজালালের মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। একইসাথে সিলগালা করা হয়েছে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ। দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।





