ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ৮:০২:৪৮ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ধানক্ষেতে ছিটকে পড়ে। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান।
নিহতরা হলেন- ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বারি মিয়ার পুত্র আবুল হোসেন (৪৬), কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চ-ীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৯), কুমিল্লার লাকসাম থানার রফিকুল ইসলামের পুত্র আরমান হোসেন রাহিম (১৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের কন্যা জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি তিন জনের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ করছে পিবিআই।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং তাজপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালে আরও দুইজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাস উচ্চগতিতে মহাসড়কের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে চলছিল। তবে ভিডিওটি দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসমানীনগর অংশের মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় যানবাহন প্রায়ই লেন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। তাদের দাবি, সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং মহাসড়কে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।






