বাংলাদেশিদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসায় লাগাম টানল মালয়েশিয়া
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২০:৫২ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন নীতিতে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন ও সামাজিক সফরের ক্ষেত্রে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট চার ধরনের ভ্রমণ উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা আগের মতো সব ধরনের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। ২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। ফলে সংশোধিত নীতির আওতায় বাংলাদেশিরাও পড়ছেন। নতুন কাঠামোয় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ নির্দিষ্ট ভ্রমণ উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিতে মূলত চার ধরনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এগুলো হলোÑফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ পর্যটন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, চিকিৎসা এবং বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটন।
অর্থাৎ কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত মালয়েশিয়ায় যাতায়াত করলে, চিকিৎসার প্রয়োজনে একাধিকবার আসা-যাওয়া করতে হলে, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ ভ্রমণে অংশ নিলে কিংবা বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া গেলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করতে পারবেন। তবে সাধারণ ছুটি কাটানো, বেড়াতে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা সামাজিক সফরের মতো উদ্দেশ্য নির্ধারিত চার শ্রেণির মধ্যে না পড়লে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে নিয়মিত পর্যটকদের ওপর। আগে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদে একাধিকবার মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ ছিল। এখন সাধারণ পর্যটনের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা সীমিত করা হয়েছে। ফলে মালয়েশিয়া থেকে ফিরে আবার সাধারণ পর্যটন উদ্দেশ্যে দেশটিতে যেতে চাইলে নতুন করে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারী পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হতে পারে।
আগের ই-ভিসা নির্দেশনায় ভিসা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ছিল। প্রতিটি প্রবেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগও ছিল। নতুন নীতিতে সাধারণ পর্যটনের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা সংকুচিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা প্রয়োজন এবং নতুন কাঠামোয় ভ্রমণের উদ্দেশ্যকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই আগের মতো মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়া যাবে না; আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নির্ধারিত চার শ্রেণির কোনো একটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
নিয়মিত ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা নির্দিষ্ট পর্যটন কার্যক্রমে মালয়েশিয়ায় যাতায়াতকারী বাংলাদেশিদের জন্য এ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও সাধারণ পর্যটকদের ক্ষেত্রে এটি বাড়তি ভোগান্তি ও ব্যয়ের কারণ হতে পারে। তবে নতুন নীতিটি মূলত ভিজিট বা সামাজিক ভ্রমণসংক্রান্ত ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কিংবা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট, সাময়িক কর্মসংস্থানসংক্রান্ত ভিজিট পাস বা কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার সঙ্গে পর্যটনভিত্তিক মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার এই পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। কর্মসংস্থান ও পর্যটন ভিসা পৃথক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়।
ভিসা ব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি মালয়েশিয়া অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নতুন ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
সব মিলিয়ে নতুন নীতিতে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সাধারণ পর্যটকদের জন্য আগের মতো সহজলভ্য থাকছে না। এখন আবেদনকারীর জাতীয়তার পাশাপাশি ভ্রমণের উদ্দেশ্যও ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে সাধারণ বেড়ানো বা সামাজিক সফরের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে। আর ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ কিংবা বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ থাকবে।






