ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আওয়ামীলীগ নেতার মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪৯:০৬ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির ৭ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান।
এছাড়াও এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামিই পলাতক।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীসহ তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেছে।
এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে দলটির সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা চারটি করে অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং অভিযোগভেদে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে-আসামি ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করা হলো এবং উক্ত সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থ হইতে জুলাই বা অগাস্ট ২০২৪ সময়কালে নিহত ও আহত সকল ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।
রায়ে যা বলেছেন ট্রাইব্যুনাল :
এই রায়ের একটি ইতিবাচক দিক আছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রোম স্ট্যাটিউটে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধান আছে।
তারই ধারাবাহিকতায় আজকের রায়ে, ৫ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। এই ৫০ শতাংশ এটাও সুনির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা বিধিবদ্ধ কোনো সংস্থা দ্বারা সেটা বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বিলি-বন্টনের ব্যবস্থা করা হবে।
এর ফলে এখন আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা এবং আহত-নিহতদের পরিবারের মধ্যে বিলি-বন্টনের ব্যবস্থা করতে আর কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর।
আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন করবে সরকার এবং তাদের কার কোথায় কী সম্পদ আছে রাষ্ট্র বা সরকার সেটা খুঁজে বের করবে এবং সে অনুযায়ী তাদের যে সম্পদ পাওয়া যাবে তার অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হবে।
আইনানুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পরে ৩০ দিন পর্যন্ত আসামিদের আপিল করার সুযোগ থাকে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় যাওয়ার হয়তো সুযোগ নাই। কিন্তু ৩০ দিন পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের এই রায় বাস্তবায়ন করতে কোনো বাধা নেই।
আসামিরা পলাতক অবস্থায় কোনো বক্তব্য দিলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর।
একইসঙ্গে, এই মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দেওয়া সপ্তম মামলায় রায় এটি।






