রাষ্ট্রপতি আসবেন বলে!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০:৪৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সুরমার বয়ে চলা জলের সমান্তরালে যে ফোয়ারাটি দুই দশক ধরে ছিল তৃষ্ণার্ত ও প্রাণহীন, তা অবশেষে ফিরে পেল তার হারানো যৌবন। রাষ্ট্রপতি আসবেন বলে ২০ বছর পর সুরমাপাড়ের ফোয়ারায় উছলে উঠলো জলধারা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সুরমা নদীর পাড়ের নান্দনিক ফোয়ারায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ফোয়ারায় পানি দেখে সুরমা নদীর পাড়ে থাকা গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন।
মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদীঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র।
সুরমা নদীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রধান উপাদান ছিল পানির ফোয়ারা। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। তবে গতকাল রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে ফের ফোয়ারাটি সচল করা হয়।
এটি দেখে পথচারী অনেকেরই মন্তব্য, কোনো বিশেষ ভিআইপি ব্যক্তির সফর ছাড়াও নগরবাসীর নিয়মিত নাগরিক সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতির আগমন যেন আয়না হয়ে দেখিয়ে দিল একটু সদিচ্ছা থাকলেই পরিবর্তন সম্ভব।






