২০ বছর পর সচল ফোয়ারা ফের ২০ ঘণ্টা পর বন্ধ!
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২:৪৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : প্রায় ২০ বছর অচল থাকার পর জলে ফিরেছিল চাঁদনীঘাটের ফোয়ারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে অচল ফোয়ারাটি জেনারেটরের মাধ্যমে সচল করেছিল সিলেট সিটি করপোরেশন। কিন্তু সেই সৌন্দর্য টিকেছে মাত্র প্রায় ২০ ঘণ্টা। রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরদিনই খুলে নেওয়া হয়েছে জেনারেটর। ফলে আবারও পানি শূন্য ফোয়ারা পড়ে আছে আগের মতোই।
শনিবার বিকেলে চাঁদনীঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের সেই ফোয়ারা বন্ধ। অথচ দুদিন আগেও সেখানে পানির ঝলকানি ছিল। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের যে আয়োজন হয়েছিল, অতিথি চলে যাওয়ার পর তার অনেকটাই উধাও। নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে ফিরেছে ভ্রাম্যমাণ টং দোকান, চটপটি-ফুচকার দোকান ও চেয়ার-টেবিল। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক হাঁটাচলার জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
চাঁদনীঘাট ও কিনব্রিজ এলাকায় দেখা গেছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। এতে একদিকে নদীর পাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটক ও নগরবাসীর চলাচলেও তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, বিশেষ অতিথির আগমনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের জন্য সাজসজ্জা না করে ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটিকে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখা দরকার।
ফোয়ারা দেখতে আসা দর্শনার্থী যুবক বলেন, প্রথমবারের মতো চালু হওয়ায় ফোয়ারাটি ভালো লেগেছিল। কিন্তু পরদিনই আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খারাপ লাগলো। জীবনে প্রথমবার চালুর খবর মিডিয়া দেখে সরাসরি দেখতে আসছিলাম। এসে দেখলাম আবার বন্ধ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে চাঁদনীঘাটে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০০৫ সালে উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই দশকেও স্থায়ীভাবে সচল হয়নি।
সিসিকের একটি সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে জেনারেটর দিয়ে ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। সফর শেষ হতেই জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শুধু রাষ্ট্রপতি আসার কারণে নয়, মাঝে মাঝে ফোয়ারাটি চালু করা হয়ে থাকে। নিরাপত্তাজনিত কিছু জটিলতার কারণে সেটি এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। শীঘ্রই ফোয়ারাটি চালুর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ফোয়ারাও চালুর ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।





