তাহিরপুরে বিষপানে ৩ সন্তানকে হত্যা স্থানীয়দের অভিযোগ পিতা মাদকাসক্ত
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪১:৩২ অপরাহ্ন

তাহিরপুর প্রতিনিধি ঃ গত চার দিন পূর্বে সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। এর পূর্বেও তিনি প্রবাসে গিয়েছিলেন। ছিলেন দুই বছর। তখন স্ত্রী ফাতেমা বেগমের স্বামীর নামে একাউন্ট করেছিলো আর টাকা পাঠালে টাকা উঠাতে পারতো সরাফত আর টাকা উঠিয়ে মাদক ও অনলাইন জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করতো। এবার সৌদি আরব যাওয়ার আগে সরাফতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর একাউন্ট সরাফতের নামে না করে নিজের নামে একাউন্ট করে দ্বিতীয় বারের মত আবারও সৌদি আরব যান। আর সংসারসহ ছেলে মেয়ের খরচের জন্য বিকাশে টাকা পাঠানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়েই মনামানিল্যের সৃষ্টি হয় স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সাথে।
আর এর জের ধরেই স্ত্রীর সাথে রাগ করে বিষ পান করিয়ে তিন শিশু সন্তানকে হত্যা করে সরাফত (৩৫)। আর এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল ও হত্যাকারী সরাফত আলীর আত্মীয় স্বজনরা জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন রজনীলাইন গ্রামের সুনাফর আলীর ছেলে সরাফত আলী। সরাফতের বাড়িতেই ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিদেশ যাওয়ার পর ঝগড়া হয় আর গত শুক্রবার ছোট ছেলে তামিম (২) কে বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দিয়েছিলো পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে। সে মাদকাসক্ত ছিলো বলেও জানিয়েছেন। এই ঘটনায় পর আশপাশের মানুষ জন ভির করছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।
নিহত তিন শিশুর সম্পর্কে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দাদি জহুরা বেগম জানান, শুক্রবার বিকেলে তিন সন্তানকে নিয়ে বড়ছড়া বাজারে যায় এবং মোরগ ও পোলাউর চাল কিনে নিয়ে আসে। রাতে রান্না করেও খায় তিন ছেলে মেয়েকে মিলে, পরে ঘুমিয়ে যায়। রাত ১ টার দিকে কোমন পানিও লিচুর সাথে বিষ মিশিয়ে তিন শিশুকে পান করিয়ে নিজেও পান করে। পরে সরাফত তার ময়মনসিংহ থাকা ফুফু সরুফা কে জানায় সে তার সন্তানদের বিষপান করিয়েছে নিজেও করে শেষ। পরে সরুফা তার বাতিজা রহম আলীকে জানায়। পরে রহম আলী সরাফতের বাড়িতে যায় এসময় সরাফতের বড় মেয়েকে বিষ পান করানোর পর চিৎকার দিলে বাড়ি আশেপাশে লোকজন আসে। পরে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।
এরপর পরেই আত্মীয় স্বজনরা তিন শিশুসহ সরাফত কে নিয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার জন্য গেলে পাতারগাও গিয়ে নৌকা না পাওয়ায় বাদাঘাট বাজারে লাইফ কেয়ার নিয়ে যায়। সেখানে থাকা চিকিৎসকগন তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করে আর গুরুত্বর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিবর্তিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান এই ঘটনাটি খুবই হৃদয় বিধায়ক, এর পূর্ব এমন ঘটনা ঘটেনি। সকালে ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টদের জানাই। পরে বেলা ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেছি।
তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফারুক আহমেদ জানান,বিষ পানে নিহত তিন শিশুর মৃত্যু খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঙ্গী ফোর্স সহ নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পারিবারিক কলহের জেড় ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এরপর আমরা মূল কারন উদঘাটনের চেষ্টা করছি। তিনি আরও জানান, আমি নিজে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জমিতে কীটনাশক মারার বিষের খালি বোতল ও কোমল পানীয় লিচু সহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তিন শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন।





