বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের ৩৬% বেকার : আইএমএফ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৩:০৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার। অর্থাৎ শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইএমএফ বলছে, এশিয়াজুড়ে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি এবং উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই এ হার সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৪৩ শতাংশ এবং ভারতে ৪০ শতাংশের বেশি। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনেও এ হার ২০ শতাংশের ওপরে।
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্বের পেছনে উচ্চশিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর বলেন, ২০১০ সালে শ্রমশক্তিতে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের অংশ ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৯ শতাংশ হয়েছে। অথচ অর্থনৈতিক কাঠামো ও চাকরির বাজারে সে অনুযায়ী পরিবর্তন হয়নি। প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন, যাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ স্নাতক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট বেকার ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী ২০ লাখ ৩২ হাজার। বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। চাকরিপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরেরও বেশি সময় এবং ১৫ শতাংশের বেশি এক থেকে দুই বছর বেকার থাকেন। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসংস্থানের বাইরে থাকছেন।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও স্নাতকদের দক্ষতার মধ্যে স্থায়ী অসামঞ্জস্য রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এআই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তবে দক্ষতা উন্নয়নের তুলনায় এআই গ্রহণের গতি বেশি হলে তরুণ কর্মীদের ওপর শ্রমবাজারের চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি ও অন্যান্য কিছু কাজে এআই ব্যবহারের ফলে বেতনভুক্ত কর্মীর চাহিদা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমএফের হিসাবে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। বিশ্বব্যাংকের গত জুনে প্রকাশিত দ্য গ্লোবাল জবস চ্যালেঞ্জ প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা এই তরুণ জনগোষ্ঠীর আকার হবে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ।





