৫ বছরে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী টাকা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৭:১৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশি টাকা দীর্ঘ সময় দুর্বল থাকার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে দেশের মুদ্রা। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়া এবং রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতিকে এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট হিসাবে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। এরপর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে।
২০২১ সালে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর বিভিন্ন সময়ে ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
শুধু ডলারের বিপরীতেই নয়, ভারতীয় রুপির বিপরীতেও গত এক বছরে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা কমে ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে, ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।
তবে টাকা-রুপির এই পরিবর্তনের পুরোটা বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়ার ফল নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশি টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় টাকা-রুপির বিনিময় হারেও তার প্রভাব পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডলারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য-এসব বিষয় টাকার বিনিময়মূল্যে প্রভাব ফেলছে। তবে মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে টাকার অবস্থান কী হবে, তা নির্ভর করবে রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর।






