বারহালে নির্বাচনী আলোচনা, চেয়ারম্যান পদে একাধিক নাম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫০:০২ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: জকিগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর বারহাল ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। চায়ের আড্ডা, বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৪ হাজার ১০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বুরহান উদ্দিন রনি পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৫৪২ ভোট।
মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, বারহালের মানুষ আমাকে বারবার ভালোবাসা ও আস্থা দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এলাকার উন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেক কাজ হয়েছে, আবার কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সুযোগ পেলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, নাগরিক সেবা ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে চাই। বারহালের মানুষই আমার শক্তি।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে অলি চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অলি চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
অলি চৌধুরী বলেন, বারহালের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমি সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
বুরহান উদ্দিন রনির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ হাজার ৫৪২ ভোট পেয়েছিলেন। শিক্ষক সমিতির সাবেক উপদেষ্টা ও সিদ্দিকুর রহমান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথাও তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুরহান উদ্দিন রনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন সমাজকর্মীর সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি দীর্ঘদিন ধরে বারহালের মানুষের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের পাশে থাকতে চাই। সুযোগ পেলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তরুণদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। বারহালকে একটি আধুনিক, সুন্দর ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন।
সাবেক ইউপি সদস্য ছালিকুর রহমানের নামও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।
ছালিকুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মানুষের অনেক সমস্যা কাছ থেকে দেখেছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চাই। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।
শাহবাগের সুমন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
সুমন চৌধুরী বলেন, বারহাল আমাদের সবার ইউনিয়ন। দল-মত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করাই জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করতে চাই। মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে বারহালের উন্নয়নে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই।
তবে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। নির্বাচনের তফসিল, মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের পর চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
বারহাল ইউনিয়ন জকিগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়ন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচন হলে তা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রার্থীরা তাঁদের পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরবেন। শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তার ওপরই নির্ভর করবে বারহাল ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র।






