সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অচলাবস্থা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬:০৬ অপরাহ্ন
* প্রশাসনিক ভবনে তালা, শিক্ষকরা অবরুদ্ধ*
*আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের*

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন আন্দোলন চালিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দিনভর নানা কর্মসূচি পালন শেষে বিকেলে জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আন্দোলনের কারণে কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। ফটকে তালা থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক ভেতরে আটকা পড়েন। কয়েক ঘণ্টা ধরে ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীও সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। জানা গেছে, রোববার দুপুর থেকেই শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। তারপরও তারা আমাদের আটকে রেখেছে। আমরা দুদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তাদের দাবি, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি করে দাবি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস শাটডাউন রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এদিকে আন্দোলনের মধ্যেই রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবারের মধ্যে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীরা এই বদলির আদেশও প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নতুন অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসকের আশ্বাসে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন না। পূর্বে আশ্বাস পাওয়ার পরও দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবার শুধু মৌখিক আশ্বাসে আস্থা রাখতে চান না তারা। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আগেও আমাদের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন থামানো হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই শুধু কথায় এবার আন্দোলন থামবে না। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ রয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।






