পাঁচ বছরেও গ্রিডে যুক্ত হয়নি জকিগঞ্জের গ্যাস
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:১৬:১১ অপরাহ্ন
নতুন দুই কূপ খননে ৩১৫
কোটি টাকার উদ্যোগ

এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ : আবিষ্কারের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায়নি দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র জকিগঞ্জের গ্যাস। প্রায় ৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন না থাকা এবং একটি মাত্র কূপের ওপর নির্ভরতার কারণে পাইপলাইন নির্মাণের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় এতদিন আটকে ছিল কার্যক্রম। তবে উৎপাদন বাড়িয়ে পাইপলাইন নির্মাণকে যৌক্তিক করতে এবার জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ আগস্ট জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে জকিগঞ্জ-১ কূপ থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাপেক্স। কিন্তু ক্ষেত্রটিতে একটিমাত্র উৎপাদনক্ষম কূপ থাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জিটিসিএলের আশঙ্কা ছিল, এক কূপ থেকে সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণের ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট চার্জ উঠে আসবে কি না। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।
বাপেক্সের হিসাব অনুযায়ী, জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ৫২ থেকে ৬৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে। বর্তমান এলএনজির বাজারদর ও চাহিদা বিবেচনায় এ গ্যাসের মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে উৎপাদন শুরু না হওয়ায় সম্ভাব্যতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাপেক্স। প্রস্তাব অনুযায়ী, জকিগঞ্জে আরও দুটি কূপ খনন করা হবে। কূপ দুটির খননে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে খননকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাপেক্সের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুটি কূপ সফল হলে জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের মোট মজুদ বেড়ে ৮৭ বিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত হতে পারে।
পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন কূপ দুটি থেকে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হলে ৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।





