সাইবার সহিংসতার ৮০ অভিযোগ, ৫৫ জনই নারী
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩:৪৬ অপরাহ্ন
# নীরব না থেকে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের আহ্বান

জালালাবাদ রিপোর্ট: দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। গত ২১ মাসে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন (সিএসডব্লিউসি) প্ল্যাটফর্মে পাওয়া ৮০টি অভিযোগের মধ্যে ৫৫ জন ভুক্তভোগীই নারী। এসব অভিযোগের মধ্যে অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, আপত্তিকর ছবি-ভিডিও প্রকাশ, ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরি ও প্রকাশ এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেলের মতো ঘটনা রয়েছে।
‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি।
প্ল্যাটফর্মটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ফেসবুক পেজে মোট ৮০টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫৫ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ। বাকি ১৩ জনের লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। পুরুষ আবেদনকারীদের মধ্যে পাঁচজন তাঁদের স্ত্রী, নাবালক কন্যাসন্তান, ভাগনি বা অন্য নারী স্বজনের হয়ে সহায়তা চেয়েছেন।
সিএসডব্লিউসি বলছে, সাইবার সহিংসতার প্রভাব শুধু ভুক্তভোগীর ওপর নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়ছে। তবে সামাজিক ও পারিবারিক নানা কারণে অনেক নারী এখনো সরাসরি অভিযোগ করতে আসেন না। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এআইনির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ব্যক্তির মর্যাদা, গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর ১৭টি ক্ষেত্রে ক্ষতিকর কনটেন্ট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট অপসারণে সরাসরি সহায়তা করেছে সিএসডব্লিউসি। এ ছাড়া ২১ জন ভুক্তভোগীকে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), পাঁচজনকে ঝঃড়ঢ়ঘঈওও.ড়ৎম এবং চারজনকে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
ব্লাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন শাখা ও হেল্পলাইনের মাধ্যমে ২৫টি সাইবার-সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জনই নারী। এ সময়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করতেও সরাসরি সহায়তা করেছে ব্লাস্ট। বর্তমানে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পরিচালনায় বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের প্রতি তিন দাবি: ‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ উপলক্ষে সরকারের প্রতি তিনটি দাবি জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি। প্ল্যাটফর্মটি বলেছে, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী আইন হিসেবে রূপান্তরের আগে তা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সংশোধনী নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের আগে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে অর্থবহ পরামর্শের দাবি জানিয়েছে তারা।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশোধিত আইনে সাইবার পরিসরের বৃহত্তর উদ্বেগের সমাধান ও নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
নীরব না থাকার আহ্বান: সাইবার সহিংসতার শিকার হলে নীরব না থেকে দ্রুত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি। একই সঙ্গে স্ক্রিনশট, লিংকসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগত তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা, সন্দেহজনক লিংক ও বার্তায় সতর্ক থাকা এবং যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করার পরামর্শও দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্লাস্টের উদ্যোগে ১৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়ক ব্লাস্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ) এবং সদস্যসচিব নারীপক্ষ। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।





