মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএম-হাইকমিশন বৈঠক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০২:৫৩ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন জোরদার এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
এ লক্ষ্যে সোমবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার ও মিনিস্টার শাহানারা মনিকা। এতে আইওএমের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন করিডোরকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অভিবাসীবান্ধব করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেয় আইওএম।
এ সময় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও আটককেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য আইওএমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।
একই সঙ্গে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুফল এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রবাসী ও সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
এসব কর্মসূচিতে নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের মধ্যে সচেতনতা, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান, কাউন্সেলর (কনস্যুলার) ফিরোজ রব্বানী, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) ফাল্গুনী বাগচী এবং থার্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) এসএম সায়েম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ হাইকমিশন দীর্ঘদিন ধরে আইওএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।
তাহিরপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত/৩
তাহিরপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুলিশ সার্কেল অফিসের সামনে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শনির হাওর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে বীরনগর, জয়েনগর, দুতমা ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের লোকজন এক পক্ষ এবং মমিসিংঙ্গাহাটি (মধ্য তাহিরপুর) গ্রামের লোকজন অপর পক্ষ হিসেবে অংশ নেন। এ সময় মমিসিংঙ্গাহাটির দুটি দোকানে হামলা ও একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়। তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত বীরনগর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে আশিকনুর, আলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ও মাইনুদ্দিনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মমিসিংঙ্গাহাটি গ্রামের মো. হারুন অর রশিদ (৫২), বাকারুল মিয়া (৫০), আজিম মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩০), আবুল কালামসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, সংঘর্ষের শুরু থেকেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে বীরজয়-লক্ষ্মী-দুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার একটি বল জালাল মিয়ার অটোরিকশায় পড়ে। অটোরিকশাচালক চলে যাওয়ার পর হাফিজ আলী এসে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি করেন।
এর জের ধরে রোববার রাতে তাহিরপুর বাজারে দুতমা গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সঙ্গে মমিসিংঙ্গাহাটি গ্রামের হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজকে জয়েনগর ও বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদ থেকে বুধবার সকালে গ্রামের সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য মাইকিং করা হয়। এর পরদিন দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।





