টানা দুই সপ্তাহ পর খুলল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০১:৩০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : টানা দুই সপ্তাহের আন্দোলন, শাটডাউন ও অচলাবস্থার পর সচল হয়েছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের পর রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হয়। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।
দুপুরে নাসিম হোসাইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলার পর শিক্ষার্থীরা হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবাল ও নাসিম হোসাইনকে ফুল দিয়ে বরণ করেন তাঁরা।
তালা খোলার পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাসিম হোসাইন বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক এবং কলেজটিকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও সংকট সমাধানে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিবর্তে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। বৈঠকে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতা থেকে বের করে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এরপর রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও সংকট সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সমঝোতা না হওয়ায় দীর্ঘদিন কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করেও কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতামুক্ত করে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট নিরসন এবং পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর- এই তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম এবং কাঙ্ক্ষিত একাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছেন। মন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও দাবিগুলোর বাস্তবায়ন এখনো বাকি। তাই প্রতিশ্রুত উদ্যোগগুলো কত দ্রুত কার্যকর হয়, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।






