আইনের ম্যাক্সিম বটে!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১২:০১:৩৭ অপরাহ্ন
আইন শাস্ত্রে একটি ম্যাক্সিম বা প্রবাদ আছে, ‘হু কামস্ ইনটু ইকুইটি মাস্ট কাম উইথ ক্লিন হ্যান্ডস’ (ন্যায়পরতা চাইতে গেলে নিজে ন্যায়পর হতে হবে)। অর্থাৎ যিনি ন্যায়বিচার চাইবেন তাকে ন্যায়ের পথে থাকতে হবে। এই ম্যাক্সিমটি মনে পড়ে গেলে এনবিআর কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলন কর্মসূচী ও এর পরিণতি দেখে। এনবিআর কর্মকর্তারা রাজস্ব বোর্ডের বিধি বিধানে সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ডাক দেন। মূলতঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজস্ব বিভাগের কাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও এনবিআর কর্মকর্তাদের দুর্নীতি হ্রাসই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বিষয়টি ভালো চোখে দেখেননি, সহজভাবে গ্রহণ করেননি এই সংস্কার বা পরিবর্তন। কারণ নতুন নিয়ম-বিধি বিধান চালু ও বাস্তবায়িত হলে তাদের উপরি আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির অর্থাৎ শাটডাউন হয়ে পড়ে। তখন সরকার এক দারুণ কৌশল অবলম্বন করে। মাছের তেলে মাছ ভাজার মতো পদ্ধতি গ্রহণ করে। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী সংস্কারের উদ্যোগকে বন্ধ করতে যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাদের অতীতের কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দুদক শুরু করে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ ও আয়ের অনুসন্ধান। যেহেতু তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ছিলেন এবং এজন্য এনবিআরে দুর্নীতির সুযোগ বন্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, তাই কেঁচো খুঁড়তে তাদের সাপ অর্থাৎ দুর্নীতি প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তারা তাদের দাবি অনুযায়ী ন্যায়সংগত কারণেই আন্দোলনে নেমেছিলেন কিন্তু নিজেরা ক্লিন হ্যান্ড না থাকায় অর্থাৎ দুর্নীতিমুক্ত না থাকায় তাদের দাবি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ন্যায়পরতা চাওয়ার ক্ষেত্রে তারা ন্যায়পর না থাকায় এমনটি ঘটে। বাস্তবে রূপ নেয় আইনের উপরোক্ত ম্যাক্সিম বা প্রবাদ। সম্প্রতি ‘আন্দোলন এখন গলার কাঁটা, গণক্ষমা পেতে চান এনবিআর কর্মকর্তারা’ শীর্ষক একটি সংবাদ মিডিয়া প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্দোলন এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য।
এক সময় বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে যারা দর কষাকষি করতেন, এখন তারা দিন কাটাচ্ছেন বহিষ্কার আর দুদক আতংকে। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন তাদের বোধোদয় হয়েছে যে আন্দোলন করা ভুল ছিলো। এরই মধ্যে কেউ কেউ গণক্ষমা চাওয়ার বিষয়েও ভাবছেন। গত কয়েকদিনে এনবিআরের ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। একই সময়ে ৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে এনবিআর তথা সরকার। এসব ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এনবিআরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে। শুধু তারাই নন বিপদে পড়েছেন এনবিআরের সহযোগী বা বেনিফিশিয়ারী দুর্নীতিবাজ অনেক বড়ো বড়ো ব্যবসায়ী। আন্দোলন উস্কে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিলো। সরকার এদের বিরুদ্ধেও তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। যা-ই হোক, এনবিআর কর্মকর্তাদের দাবি যদি ন্যায়সংগত ও ন্যায়পর হতো তবে তাদের আজকের এই বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়তে হতো না। সরকারের সাথে দাবি দাওয়া নিয়ে দর কষাকষি করে একটি সুরাহায় যেতে পারতেন। দাবি আদায় হতো এবং সম্মান ও মর্যাদাও রক্ষা হতো। কিন্তু তারা নিজেকে ন্যায়পর ও সৎ না হওয়ায় তাদের দাবিকৃত ন্যায়সঙ্গত দাবি দাওয়াও আদায় হচ্ছে না। উল্টো চাকুরীচ্যুতি ও জেল জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।





