২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু : জাতিসংঘ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৭:৪২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : ২০২৫ সালটি সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে| ওই এক বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন| শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে|
ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ| সংস্থাটির তথ্যমতে, গত এক বছরে ৬ হাজার ৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন| এর মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মারা গেছেন| বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যবহৃত প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই মৃত্যুহার সর্বোচ্চ|
ইউএনএইচসিআর জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে যাত্রা করা রোহিঙ্গাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু| মৃত্যুর এই মিছিল ২০২৬ সালেও থামেনি| চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন মাসে ২ হাজার ৮০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা একইভাবে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন|
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়| এতে আনুমানিক ২৫০ জন রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন| দীর্ঘ সময় পর, ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে মাত্র ৯ জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়| বর্তমানে ইউএনএইচসিআর ওই বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের কাউন্সিলিং, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে|
ইউএনএইচসিআর-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মানব পাচার, চরম শোষণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিচ্ছেন| মূলত বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই অনিরাপদ নৌকাগুলো ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়|
অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী মর্যাদার সাথে এবং নিরাপদ পরিবেশে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইলেও সেখানে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় তাদের সামনে আশার আলো ক্ষীণ হয়ে আসছে| অন্যদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা বা তহবিলের চরম সংকট ˆতরি হয়েছে| ক্যাম্পে অস্থিরতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগের অভাব শরণার্থীদের এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে|
বর্তমানে এ অঞ্চলে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে ১২ লাখই বাংলাদেশে| ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা বা জেআরপি-র লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া গেছে| এই বিশাল ঘাটতি আন্তর্জাতিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে|
এমন পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, নিরাপদ ও ˆবধ পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় কাজ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর| একই সঙ্গে সমুদ্রপথে প্রাণহানি রুখতে এবং মানব পাচার প্রতিরোধে সমšি^ত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি|





