১৫ মাসে ৩২ বার ভূমিকম্প : সিলেটে সাত সকালে আতঙ্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন, মাঝারি মাত্রার হলেও গভীরতার কারণে এর প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মাসে ৩২ বার ভূমিকম্প অনুভূত হলো দেশে।
সাত সকালে হওয়া ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নগরবাসীদের মধ্যে। এ সময় বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন অনেকেই। তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সূত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর রাজ্য। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল ৪৩৬ কিলোমিটার।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) অনুসারে, মঙ্গলবার ভোররাতে মণিপুরে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২১ এপ্রিল ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে এই কম্পনটি অনুভূত হয় এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কামজং-এ। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৬২ কিলোমিটার গভীরে, যা একটি মাঝারি গভীরতার ভূকম্পন নির্দেশ করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রুবাঈয়াৎ কবীর বলেন, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ছিল। ঢাকা থেকে এর উৎপত্তিস্থল অনেকটাই দূরে। এতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু হয়নি। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও আমাদের কাছে খবর নেই।
ভূমিকম্পপ্রবণ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে আছে বাংলাদেশ। তাই এ দেশে যে ভূমিকম্প মাঝেমধ্যে হবে, সেটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, সম্প্রতি দেশের মধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্প বেড়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া ভূমিকম্পগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৫ মাসে দেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় ৩২টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে বৃহত্তর সিলেট এলাকায়-১০টি। এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি ডাউকি চ্যুতির কাছাকাছি এলাকায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি এখনও সীমিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি কেবল উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে নির্মাণের সময় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা অত্যাবশ্যক।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ঘন ঘন কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেই অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে রয়েছে। ছোট কম্পনগুলো আসলে নির্দেশ করছে যে ভূ-অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত মহড়া এবং ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।



