হাওরে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন
জসীম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বোরো ফসল। হাওরজুড়ে শুধু পানি আর পানি। হাওরের পানিতে ভাসছে শ্রমে ঘামে ফলানো সোনার ফসল।
এদিকে, হাওর ও নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ সেন্টিমিটার। সুরমা নদীতে পানি বিপদসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দিরাই স্টেশনে ১২৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২২ মিলিমিটার।
হাওরের কৃষকরা জানান, হাওরের এখন পর্যন্ত ৩০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। কাটা ধান আনার রাস্তা নেই। কাদাজল মাড়িয়ে ধান পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। খলাতে ভেজা ধানে গন্ধ ধরেছে। ধান ক্ষেতে দাঁড়িয়ে কৃষক চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
দেখার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, জবান আলী নামে এক কৃষক ফসলের মাঠে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। তার কাছে হাওরের ফসল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু ধান কেটে মাড়াই শেষে খলাতেই রেখেছিলাম। সকালে এসে দেখি ধানে পঁচন ধরে গন্ধ বের হচ্ছে। আরও ৫ কেদার জমি হাওরে পানিতে ডুবে আছে। পানি না কমলে হাওর জলেই ধান ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে। কি করে বাঁচব আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেননা।
শনির হাওরের কৃষক জুলহাস মিয়া জানান, আমি প্রতিবছর ৭০০ থেকে ৮০০ মন ধান পাই। এবার ১০০ মন ধানের জমি কেটেছি। কিন্তু ধান শুকাতে না পেরে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আরও জমি কাটার বাকি রয়ে গেছে। হাওর ও নদীর পানি সমান হওয়ায় জমি ডুবে গেছে। হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না।
খরচার হাওরের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, হাওরে পানিতে ধান ডুবে গেছে। হাওরে শ্রমিক মিলছেনা। যে জমিটুকু ভাসমান আছে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে কাটা যাচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই উপজেলার সব হারভেস্টার মেশিন বেশি মজুরি পেয়ে অন্যত্র চলে গেছে। প্রশাসনের কোন তদারকি নেই।
কৃষি বিভাগ জানায়, এবার হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোর আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানান, এ পর্যন্ত হাওরের ধান কাটা হয়েছে ৪৭ শতাংশ। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৭০৫৭ হেক্টর। কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কাটতে পরামর্শ দিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, হাওরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি আরও বাড়বে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে ফসলরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্বাভাবিক কারণেই ফসলের ক্ষতি হতে পারে।





