দক্ষিণ সুরমায় আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষকরা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩০:৫৮ অপরাহ্ন

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : সিলেট বিভাগজুড়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে| চারিদিকে মৌ মৌ ধানের গন্ধে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে| সিলেটের হাওর এলাকায় তাকালে হলুদের সমারোহ দৃষ্টি কাড়ে| এ বছর ˆবশাখের আগেই সকল ধান ঘরে উঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন কৃষকরা| সিলেটে শহর থেকে অনেকেই গ্রাম-গঞ্জে চলে যাচ্ছেন ধান কাটতে| কৃষকরা চাচ্ছেন বন্যার আগেই ধান ঘরে তুলতে| কিন্তু শেষ মুহূতে ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় কৃষকগণ অর্ধপাকা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন|
সিলেট জেলায় এ বছর ৮৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তবে ৮৭ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে| ইতিমধ্যে হাওরের ৫০ ভাগ ধান কাটা শেষ আর হাওরের বাইরে ধান কাটা শেষ ১০ ভাগ|
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে বলছে, জেলার হাওর অঞ্চলের ৫০ ভাগ এবং নন হাওরে শতকরা ১০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে| আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা হয়ে যাবে| এছাড়া ধান কাটাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে| হারভেস্টার ও রিপার মেশিন দিন-রাতে হাওরে ধান কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে| সেজন্য শ্রমিক সংকট কৃষকদের বাধার কারণ হতে পারেনি| হারভেস্টার মেশিনে ধান কেটে সঙ্গে সঙ্গে মাড়াই করে একেবারে খড়কুটো পরিষ্কার করে দিয়েছে| এতে কৃষকদের কম সময়ে ধান তোলার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিকভাবেও সাশ্রয় হয়েছে| যার ফলে ডিজিটাল সুবিধা নিতে পারছেন কৃষকেরা| উপজেলার তেতলী, জালালপুর, মোগলাবাজার ও দাউদপুর ৪টি ইউনিয়ন আনিলগঞ্জ, বুরুন্ডা, উত্তর করিমপুর, দক্ষিণ করিমপুর, মোগলাবাজার, সোনাপুর, মানিককোণা, মির্জানগর, ইন্তাত আলীপুর, সুনামপুর হাওরগুলো থেকে ˆবরী আবহাওর কারণে কাচা ধান কেটে নিয়েছন কৃষকগণ|
কৃষকরা বলছেন, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারণে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা| তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভাল হয়েছে| তবে শেষ মুহূর্তে ˆবরি হাওয়ার কারণে হাওরের কিছু ধান নষ্ট হয়েছে এবং অনেকেই অর্ধপাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে| শ্রমিক সংকট থাকলেও হারভেস্টার মেশিন ধান কাটা অনেক সহজ করে দিয়েছে| তবে কিছু কিছু এলাকায় ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে|
কৃষক কলিম মিয়া জানান, তিনি এবার ৮ কেয়ার জমিতে বোর ধান চাষ করেছেন| ফলন ভালই হয়েছে| কিন্তু ভারী বর্ষণের কারণে তার সকল ধান খেতে পানি নিচে তলিয়ে গেছে| মাত্র ১ কেয়ার জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে|
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল জানান, এ বছর উপজেলায় ৫ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে| ইতিমধ্যে এ উপজেলায় হাওর গুলোতে ৮৪% এবং নন হাওরে ৪৮% ধান কাটা শেষ হয়েছে| হঠাৎ করে প্রভল বর্ষণের কারণে হাওরা এলাকার কিছু ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে| আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন|





