অতি ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ মে ২০২৬, ১২:০১:০১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী কয়েকদিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে নগর ও হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার শঙ্কা বাড়ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সিলেট বিভাগজুড়ে টানা বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও আশপাশের উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৪৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় আরও ৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও ছিল বেশি।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও সিকিম অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই ও হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০৮ মিলিমিটার এবং সিলেটের লাতু এলাকায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের বাঘমারা অঞ্চলেও ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা উজান থেকে নেমে আসা ঢলের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
নগরের তালতলা এলাকার বাসিন্দা তুহিন আহমেদ বলেন, ‘অল্প সময়ের ভারী বর্ষণে সিলেট নগরের নিচু এলাকা দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, খাল দখল ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আমরা প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার কবলে পরি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ণ ও নদী খনন করে এ সমস্যা সমাধান করতে হবে।’
এদিকে, হাওরাঞ্চলের কৃষকরাও উদ্বেগে রয়েছেন। বোরো ধান কাটার মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও কিছু এলাকায় এখনও ধান ঘরে তোলা বাকি রয়েছে। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল দেখা দিলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকিও থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





