ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল হাকালুকিতে পানি বৃদ্ধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মে ২০২৬, ১২:৫২:১৩ অপরাহ্ন
# বড়লেখার চার ইউনিয়নে বন্যার শঙ্কা

বড়লেখা প্রতিনিধি : টানা তিনদিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। হাকালুকি হাওরপারের বড়লেখা উপজেলার চার ইউনিয়নে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এই ৪ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে বন্যার পানি, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং শতাধিক হেক্টর জমির আউশে বীজতলা ও সদ্য রোপিত আউশ ধান। বৃষ্টি না থামলে বন্যার অবনতির আশংকা রয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। উজানের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানি বিভিন্ন নদী, ছড়া ও খাল দিয়ে হাকালুকি হাওরে পতিত হলে ক্রমেই হাকালুকিতে বাড়তে থাকে পানি। এতে হাকালুকি হাওরপারের বড়লেখা উপজেলার বর্নি, তালিমপুর, সুজানগর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামীণ রাস্তা। অনেকের বসতঘরে পানি না ঢুকলেও উঠোন তলিয়ে বারান্দা ছুঁই ছুঁই করছে। বৃষ্টি না থামলে হাকালুকি হাওরপাড়ের চার ইউনিয়নের এক/দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হওয়ার আশংকা রয়েছে। সরেজিমেন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা বিষন্নমনে আউশের বীজতলা ও সদ্য রোপনকৃত তলিয়ে যাওয়া খেত দেখছেন।
কৃষকরা জানান, ধারদেনা করে জমি চাষ ও শ্রমিক দিয়ে চারা রোপণ করেন। অনেক টাকা ব্যয় করে ধান লাগিয়েছিলেন। দুই/তিন দিন ধরে তাদের শ্রমের-কষ্টের ও অর্থের ফসল পানির নিচে রয়েছে। পানি কমার কোনো লক্ষণ নেই। ফসল না হলে কী খাবেন এই চিন্তায় কোনো দিশা পাচ্ছেন না।
বর্নি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ও তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান জানান, তাদের ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাটেও পানি উঠেছে। তবে এখনও মানুষের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি না থামলে পানি কমার সম্ভাবনা নেই। উজানের বৃষ্টির হাওরে জমা হয়। পানি নাম কমলে কয়েক হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মনোয়ার হোসেন জানান, টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে উপজেলার শতাধিক হেক্টরের আউশ ধানের বীজতলা ও আউশ ধানের খেত তলিয়ে গেছে। শনিবারও তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব জানান, বন্যার আশংকার কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে ২৩টি বন্যাআশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। হাকালুকি হাওড়পাড়ের অনেকের বাড়িঘর আংশিক বন্যাকবলিত হলেও এখনও বড়কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়কে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখতে নির্দেশ দেওয়া আছে।




