সুনামগঞ্জে গরু বেশি, ক্রেতা কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মে ২০২৬, ৭:০৪:৩৭ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে কুরবানির হাট। হাটে পশুর সংখ্যা বেশি হলেও ক্রেতা কম। শুধু দাম হাঁকিয়ে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা। এবার মাঝারি গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
সদর উপজেলার জয়নগর বাজার গিয়ে দেখা গেছে, হাজার খানেক গরু এসেছে হাটে। পরিবার পরিজন নিয়ে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন। বেশিরভাগ মাঝারি গরুর দাম হাঁকছেন তারা। বিশেষ করে লাখ টাকার মধ্যে দামাদামি করছেন। তাদের ধারনা ঈদের কাছাকাছি সময় এলে গরুর দাম কমতে পারে। তাই দরদাম করে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলহারা হওয়ার পর মানুষের হাতে টাকা নেই। গরু কিনতে আগ্রহ নেই। এছাড়া রয়েছে গো-খাদ্য সংকট। সব মিলিয়ে গরু বিক্রি করা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামের আশায় ট্রাকে করে সিলেটের বাজারে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সদর উপজেলার টুকেরবাজার পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, শত শত গরু নিয়ে এসেছেন পাইকাররা। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। বিকেল ৪ টা পর্যন্ত হাতেগুনা কয়েকটি গরু বিক্রি হয়েছে।
গরু বিক্রেতা জমিল হোসেন বলেন, আমার পালিত একটা গরু নিয়ে এসেছি হাটে। এক লাখ টাকার গরু দাম হাঁকছে ৭০ হাজার টাকা। দামে না পোষালে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।
খামারীরা বলছেন, গোখাদ্য, ওষুধ, শ্রমিক ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে খরচ বেশি হয়েছে। এছাড়া এবার খড় সংকট দেখা দিয়েছে প্রবলভাবে। সবমিলিয়ে খুব একটা লাভবান হওয়া যাবেনা।
ইজারাদার তৈয়বুর রহমান বলেন, প্রতি বুধবার জয়নগর বাজারে গরুর হাট বসে। এবার কুরবানীকে কেন্দ্র করে হাজার গরু এসেছে হাটে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতারা দাম হাঁকিয়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, গরু কিনে রাখার জায়গা নেই। খড় সংকট রয়েছে। এছাড়া হাওরে গরু চুরি বেশি হচ্ছে। এসব কারণে ঈদের আগের দিন গরু কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট বাগবেড় বাজারে বিপুল সংখ্যক গরু উঠেছে। তবে হাটে মানুষের ভিড় থাকলেও তুলনামূলক কম দেখা মিলছে প্রকৃত ক্রেতার। গরুর দাম নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।
পলাশ বাজার ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা একেএম সাব্বির আহমেদ বলেন, বাগবেড় গরুর হাটটি খাস কালেকশানে চলছে। হাটে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির গরু এসেছে। কিন্তু ক্রেতারা তাদের দাম ছাড়ছেন না, ফলে বিক্রি কম হচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু ঈদকে সামনে রেখে আগামী হাট বসবে, সেহেতু গরু হাটে আসবে এবং বিক্রিও হবে।





