কাল আরাফা, কাল হজ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মে ২০২৬, ৭:২১:৫০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’ যার অর্থ-হে আল্লাহ, আমি হাজির আছি, আমি হাজির আছি। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির আছি। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সমগ্র বিশ্বজাহান আপনার। আপনার কোনো শরিক নেই। এমন শাশ্বত ধ্বনিতে সোমবার শুরু হয়েছে ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজের আনুষ্ঠানিকতা।
সোমবার ভোর থেকেই লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার পরিবেশ। আল্লাহর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হজ যাত্রীরা আজ সারাদিন মিনায় অবস্থান করেন। তারা ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। এতে মক্কা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে মিনা পরিণত হয় তাঁবুর শহরে। এবার প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন হাজিরা।
সৌদি সময় অনুযায়ী কাল ৯ জিলহজ। তাই কাল ফজরের নামাজ আদায় করে হজ পালনকারীরা আরাফার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন এবং জোহরের নামাজের আগেই আরাফায় উপস্থিত হবেন। হাজীগণ সেখানে একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।
এর আগে মসজিদ নামিরা থেকে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন। শরিয়তের বিধানানুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ।
এই আরাফাত ময়দানেরই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ও রীতিকে লালন করেন বিশ্বের সমস্ত মুসলিম। এদিন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মুসলিম রোজা পালন করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহকে ক্ষমা করে দেবেন। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)। উক্ত হাদিসে ‘আরাফার দিন’ বলতে হজের দিনকে বোঝানো হয়েছে।
হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখে, তার একাধারে দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (আবু ইয়ালা; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনের চেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।’ (মুসলিম ১৩৪৮)
ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা আবুল হোসাইন খান বলেন, আরাফাতের দিন রোযা রাখাটাই যুক্তিযুক্ত। কারণ উল্লেখিত হাদীসে তারিখ উল্লেখ না করে রাসুল (স:) ‘আরাফাতের দিন’ উল্লেখ করেছেন। যদি ৯ জিলহজ্ব উল্লেখ করতেন তাহলে যে দেশে যেদিন ৯ জিলহজ্ব সে দেশে সেদিন রোজা রাখা যেত। সম্ভবত আরাফাতের দিন রোজা রাখতে বলার উদ্দেশ্য এই যে, এই রোজার মাধ্যমে আরাফাতে অবস্থানকারী হাজীদের সাথে আল্লাহ অন্যদেরও ক্ষমা করে দিতে চান। আরাফাতের দিন রোজাটি রাখলে ঐ বিরাট ফজিলত পাওয়া যাবে।
তবে আরাফাতেই হজের আনুষ্ঠানিকতা বা কার্যক্রম শেষ নয়। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন হাজীরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন।
পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন এবং শুধু বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন হাজীরা। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোট করবেন। ১০ ও ১১ জিলহজ মিনায় রাত কাটানো ওয়াজিব। ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পন্ন না হলে সেই রাতও মিনায় অবস্থান করবেন হাজীরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনুমানিক ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করছেন। চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করছেন।





