টিলাগড় মদনী ঈদগাহে প্রকৃতির ছায়ায় ঈদের জামাত, ঐতিহ্য আর সৌন্দর্যের অনন্য মিলনস্থল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মে ২০২৬, ৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন

মামুন পারভেজ : সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় যেন এক টুকরো সবুজ প্রশান্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শাহ মদনী ঈদগাহ। সারিবদ্ধ কাটবাদাম গাছের ঘন ছায়ায় আচ্ছাদিত এই ঈদগাহ শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঈদ এলেই এই মাঠকে ঘিরে বাড়ে মানুষের আগ্রহ, আর বছরের অন্যান্য সময়েও এটি হয়ে ওঠে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র।
আগামীকাল বুধবার ঈদের জামাত সকাল ৮টা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঈদগাহের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মোবাশ্বির আলী জুবের।
তিনি আরও জানান, ৫৮টি সারিবদ্ধ কাটবাদাম গাছের ছায়া সুশীতল মনোরম পরিবেশ যে কারো নজরকাড়বে। প্রায় অর্ধশতক জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। শুরুতে এটি ছিল সাধারণ একটি খোলা মাঠ। সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে। বর্তমানে ঈদগাহকে ঘিরে রয়েছে শাহ মদনী (রহ.) মসজিদ, মাদরাসা, মাজার এবং গোসলখানা।
ঈদগাহের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর কাটবাদাম গাছগুলো। প্রায় একযুগ আগে লাগানো গাছগুলো এখন বড় হয়ে বিশাল ছায়া তৈরি করেছে। ঈদের দিন মুসল্লিরা যখন নামাজে দাঁড়ান, তখন গাছের শীতল ছায়া পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও মনোরম। গাছের ডালে ঝুলে থাকা কাঁচাপাকা ফলও নজর কাড়ে আগতদের।
গত মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। মাঠ পরিষ্কারের পাশাপাশি গাছের ডাল ছাঁটাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.) সঙ্গে আসা ওলি শাহ মদনী (রহ.) মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শাহ মদনী মসজিদ, মদনী ঈদগাহ ও গোসলখানা। প্রায় ৩ একর জায়গার উপর নির্মিত এসব স্থাপনা। ১৯৮২ সালে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এই ঈদগাহে। এরপর স্থানীয় সরকার ও জনসাধারণের সহযোগিতায় ঈদগাহে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিবছর ঈদের দুই জামাতে কয়েক হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন। শুধু টিলাগড় নয়, আশপাশের বালুচর, মেজরটিলা ও অন্যান্য এলাকার মুসল্লিরাও এখানে এসে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। খোলা আকাশের নিচে সবুজে ঘেরা পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পেরে তারা ভিন্ন এক প্রশান্তি অনুভব করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, “এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করলে গ্রামের ঈদগাহের অনুভূতি পাওয়া যায়। শহরের মধ্যে এমন খোলামেলা আর সবুজ জায়গা খুব কমই আছে।”
প্রতিবছর ঈদের সময় আসলে প্রাণ ফিরে পায় ঈদগাহ। এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ। ঈদ সামনে রেখে স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী মিলে মাঠ প্রস্তুতের কাজও প্রায় সম্পন করেছেন।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, শুধু নামাজের স্থান হিসেবেই নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে ঈদগাহের সৌন্দর্য আরও বাড়াতে আলোকসজ্জা, বসার ব্যবস্থা ও সবুজায়নের নতুন পরিকল্পনাও রয়েছে।
শাহ মদনী ঈদগাহ কমিটির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মোবাশ্বির আলী জুবের বলেন, কাল পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ পড়াবেন শাহ মদনী মাদরসার মুহতামিম মাওলানা হেলাল আহমদ।
কাটবাদাম গাছগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই গাছগুলো সাবেক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের উদ্যোগে রোপণ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, কাটবাদাম গাছের সারি আর ছায়াঘেরা পরিবেশ মদনী ঈদগাহকে দিয়েছে এক ভিন্ন পরিচিতি। তাই ঈদ এলেই এই মাঠ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, হয়ে ওঠে মিলনমেলা ও প্রকৃতিপ্রেমীদের এক নান্দনিক গন্তব্য।




