লাশের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ দিতে হাইকোর্টের রুল
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুলাই ২০২৬, ৮:৩৪:৪২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : নারী লাশের পোস্টমর্টেম করতে পোস্টমর্টেমকৃত হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট| রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন|
এর আগে ১৩ জুলাই দেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হয়, সেসব হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন| রিটে ¯^াস্থ্যসচিব, ¯^াস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়| এর আগে আইনজীবী মনির উদ্দিন প্রতিটি হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগের দাবি জানিয়ে ¯^াস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেন|
আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র| ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মেই নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখার বিধান রয়েছে| ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়| ইতোপূর্বে বাংলাদেশে পুরুষ কর্তৃক মৃত নারীর লাশের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে| সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে|
সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে কোনো নারী মারা গেলে তার পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে| এমন পরিস্থিতিতে যখন তারা জানতে পারে যে, তাদের পরিবারের প্রিয় নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম একজন পুরুষ করবেন, তখন তা আরও হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে| যদি কোনো নারী ডোম এ কাজটি করতেন, তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা কিছুটা সান্ত্বনা পেতেন|
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সময়ে নারীরা সবক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে কাজ করছেন| ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় নারী ডোম থাকলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং ˆবষম্যও দূর হবে| আধুনিক সমাজে নারী রোগী বা লাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা| মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি| মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে|
২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ ওঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে| মর্গের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়| ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে| এ ছাড়া ২০২০ সালের ২০ নভে¤^র সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত (২০) নামে এক ডোমকে গ্রেপ্তার করা হয়| গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের দোষ ¯^ীকার করেন|
অন্যদিকে এক-দুইটি নয়, ১শ’টি লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে ¯^ীকার করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক মর্গরক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)| তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১শ’টি লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন|
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হয়, সেসব হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগ এবং লাশের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে|






